শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশিত পোস্ট ১৭২টি ক্যাটাগরি ২০টি
সর্বশেষ আপডেট ৯:৫৭ অপরাহ্ণ লাইভ

পে স্কেল • পেনশন • ছুটি • সরকারি প্রজ্ঞাপন ও গেজেটের সর্বশেষ আপডেট

সরকারি আপডেট
সরকারি ওয়েবসাইটের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন, গেজেট ও পরিপত্র এখানে দেখা যাবে
পেনশন

অবসরের ৩ মাস আগে আবেদন বাধ্যতামূলক, পিআরএল ও লাম্পগ্রান্ট পেতে লাগবে ১০ ধরনের নথি

অবসরের ৩ মাস আগে আবেদন বাধ্যতামূলক, পিআরএল ও লাম্পগ্রান্ট পেতে লাগবে ১০ ধরনের নথি

সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) ও লাম্পগ্রান্টের সুবিধা পেতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের অধীন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের তারিখের কমপক্ষে তিন মাস আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য ১০ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিডিএস (PDS) তথ্য হালনাগাদ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অবসর, অবসরোত্তর ছুটি (PRL) ও লাম্পগ্রান্ট মঞ্জুরির আবেদন অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

অধিদপ্তরের এই নির্দেশনার মাধ্যমে অবসরসংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতিজনিত জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অবসরের কত দিন আগে আবেদন করতে হবে?

অফিস আদেশ অনুযায়ী, অবসরের তারিখের কমপক্ষে তিন মাস আগে পিআরএল ও লাম্পগ্রান্ট মঞ্জুরির জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র, চাকরিসংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য কাগজপত্র সংযুক্ত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

এ ক্ষেত্রে শুধু আবেদন জমা দিলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। আবেদনকারীর পিডিএসের তথ্য হালনাগাদ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবসরের সময় ঘনিয়ে এসেছে, তাঁদের শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পিআরএল ও লাম্পগ্রান্ট আবেদনে প্রয়োজনীয় ১০টি কাগজপত্র

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের অফিস আদেশে অবসরসংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়ায় যেসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে, সেগুলো হলো—

১. এসএসসি সনদ: শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে এসএসসি সনদের সত্যায়িত কপি।

২. ছুটির হিসাব: সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত ছুটির হিসাবের মূল কপি।

৩. ইএলপিসি (ELPC): ইএলপিসির সত্যায়িত কপি।

৪. সার্ভিস বুক: চাকরির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চাকরিসংক্রান্ত তথ্যসংবলিত সার্ভিস বুকের মূল কপি।

৫. না-দাবি প্রত্যয়নপত্র: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা না-দাবি প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি।

৬. বিভাগীয় মামলা নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নেই—এ মর্মে প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি।

৭. অঙ্গীকারনামা: নির্ধারিত অঙ্গীকারনামার মূল কপি।

৮. অডিট আপত্তির প্রত্যয়নপত্র: অডিট আপত্তিসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি।

৯. চাকরি স্থায়ীকরণের আদেশ: চাকরি স্থায়ীকরণের আদেশের ফটোকপি।

১০. জাতীয় পরিচয়পত্র: জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সত্যায়িত ফটোকপি।

অর্থাৎ আবেদনকারীকে শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির বিবরণ, ছুটির হিসাব, আর্থিক দায়দেনা এবং প্রশাসনিক অবস্থার প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন নথি জমা দিতে হবে।

কোন কাগজপত্রে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে?

অবসরসংক্রান্ত আবেদন প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সার্ভিস বুক, ছুটির হিসাব, না-দাবি প্রত্যয়নপত্র এবং চাকরি স্থায়ীকরণের আদেশ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সার্ভিস বুকের তথ্যের সঙ্গে পিডিএসের তথ্যের অসংগতি থাকলে আবেদন যাচাইয়ের সময় সমস্যা তৈরি হতে পারে। একইভাবে ছুটির হিসাব সঠিকভাবে প্রস্তুত না থাকলে অবসরোত্তর ছুটি নির্ধারণ ও মঞ্জুরির প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অন্যদিকে, না-দাবি প্রত্যয়নপত্র এবং অডিট আপত্তিসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়দেনার বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।

তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি নথির তথ্য যথাযথভাবে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

নির্ধারিত সময়ে আবেদন না করলে কী সমস্যা হতে পারে?

অধিদপ্তরের আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যসহ আবেদন পাঠানোর বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, উল্লেখিত প্রত্যয়নপত্র, কাগজপত্র এবং পরিপূর্ণ তথ্য যথাসময়ে আবেদনের সঙ্গে পাঠাতে ব্যর্থ হলে পিআরএল বা অবসরোত্তর ছুটি মঞ্জুরিতে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পিডিএস হালনাগাদ করে আবেদন পাঠাতে ব্যর্থ হলে পিআরএল বা অবসরসংক্রান্ত ছুটি মঞ্জুরিতে বিলম্বের জন্য কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায়ী থাকবে না।

এর অর্থ হলো, অবসরের আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আবেদন প্রেরণকারী দপ্তরের ওপরও গুরুত্বপূর্ণভাবে বর্তায়।

পিডিএসের তথ্য হালনাগাদ না থাকলে বাড়তে পারে জটিলতা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পিডিএস গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। অবসরসংক্রান্ত আবেদন করার আগে পিডিএসে থাকা ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য সঠিক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

বিশেষ করে জন্মতারিখ, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, পদবি, চাকরি স্থায়ীকরণের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যের সঙ্গে সার্ভিস বুকের মিল থাকা প্রয়োজন।

কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে অবসরের আবেদন পাঠানোর আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

যাঁদের অবসরের সময় ঘনিয়ে এসেছে, তাঁদের করণীয়

অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, অবসরের সম্ভাব্য তারিখ সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

  • অবসরের তারিখ ও চাকরির মেয়াদ নিশ্চিত করতে হবে।
  • কমপক্ষে তিন মাস আগে আবেদন প্রস্তুত করতে হবে।
  • পিডিএসের তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।
  • হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছ থেকে ছুটির হিসাব সংগ্রহ করতে হবে।
  • সার্ভিস বুকের তথ্য যাচাই করতে হবে।
  • না-দাবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
  • চাকরি স্থায়ীকরণের আদেশের কপি প্রস্তুত রাখতে হবে।
  • সব কাগজপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

কোথায় যোগাযোগ করবেন?

অবসর, পিআরএল ও লাম্পগ্রান্ট মঞ্জুরিসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো তথ্য প্রয়োজন হলে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখায় যোগাযোগ করা যাবে।

অফিস আদেশে অধিদপ্তরের ই-মেইল ঠিকানা হিসেবে info@dgnm.gov.bd উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ওয়েবসাইট: www.dgnm.gov.bd

শেষ কথা

সরকারি চাকরি শেষে অবসরোত্তর ছুটি ও লাম্পগ্রান্ট মঞ্জুরির বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রক্রিয়ায় সামান্য কাগজপত্রের ঘাটতি কিংবা তথ্যের অসংগতির কারণে আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হতে পারে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের ২ নভেম্বরের নির্দেশনায় অবসরের কমপক্ষে তিন মাস আগে আবেদন এবং প্রয়োজনীয় ১০ ধরনের কাগজপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। তাই অধিদপ্তরের আওতাধীন যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরের কাছাকাছি রয়েছেন, তাঁদের উচিত এখন থেকেই প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ, পিডিএস হালনাগাদ এবং আবেদন প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করা।

মনে রাখতে হবে, সময়মতো আবেদন এবং সঠিক কাগজপত্র জমা দেওয়াই অবসরসংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

 Source File

আপনার মতামত লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।