সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশিত পোস্ট ১৬১টি ক্যাটাগরি ২০টি
সর্বশেষ আপডেট ১১:২৩ অপরাহ্ণ লাইভ

পে স্কেল • পেনশন • ছুটি • সরকারি প্রজ্ঞাপন ও গেজেটের সর্বশেষ আপডেট

সরকারি আপডেট
সরকারি ওয়েবসাইটের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন, গেজেট ও পরিপত্র এখানে দেখা যাবে
পেনশন

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডে কত বেতন, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা কত, পেনশন বাড়বে কীভাবে?

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডে কত বেতন, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা কত, পেনশন বাড়বে কীভাবে?

সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং অবসরভোগীদের পেনশন নির্ধারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর একটি বিস্তারিত তথ্যভান্ডার। এতে গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো, নতুন বেতন নির্ধারণের নিয়ম, বেতন বৃদ্ধির ধাপ, বিভিন্ন ভাতার হার এবং পেনশনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

বেতন স্কেল ২০২৬ ডাটাবেইজ

তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশিত হয়। সেখানে নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর করার বিধানও তুলে ধরা হয়েছে।

তবে সরকারি কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং সম্পূর্ণ বর্ধিত বেতন পাওয়ার সময় এক নয়। বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি বর্ধিত বেতনের কত শতাংশ কোন সময়ে পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট আদেশের বিধান অনুযায়ী হিসাব করতে হবে।

২০টি গ্রেডে নতুন বেতন কাঠামো

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর তথ্যভান্ডারে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতনের বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরা হয়েছে। গ্রেডভেদে বেতনের প্রারম্ভিক ধাপ, পরবর্তী ইনক্রিমেন্ট এবং সর্বোচ্চ ধাপের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

তথ্যভান্ডারে সংকলিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন হলো—

গ্রেড নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক মূল বেতন
১ম গ্রেড ১,৫৬,০০০ টাকা
২য় গ্রেড ১,৩২,০০০ টাকা
৩য় গ্রেড ১,১৩,০০০ টাকা
৪র্থ গ্রেড ১,০০,০০০ টাকা
৫ম গ্রেড ৮৬,০০০ টাকা
৬ষ্ঠ গ্রেড ৭১,০০০ টাকা
৭ম গ্রেড ৫৮,০০০ টাকা
৮ম গ্রেড ৪৬,০০০ টাকা
৯ম গ্রেড ৪৪,০০০ টাকা
১০ম গ্রেড ৩২,০০০ টাকা
১১তম গ্রেড ২৫,০০০ টাকা
১২তম গ্রেড ২৪,৩০০ টাকা
১৩তম গ্রেড ২৪,০০০ টাকা
১৪তম গ্রেড ২৩,৫০০ টাকা
১৫তম গ্রেড ২২,৮০০ টাকা
১৬তম গ্রেড ২১,৯০০ টাকা
১৭তম গ্রেড ২১,৪০০ টাকা
১৮তম গ্রেড ২১,০০০ টাকা
১৯তম গ্রেড ২০,৫০০ টাকা
২০তম গ্রেড ২০,০০০ টাকা

এ ছাড়া তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

গুরুত্বপূর্ণ: এগুলো তথ্যভান্ডারে সংকলিত বেতন কাঠামোর অঙ্ক। সরকারি বেতন নির্ধারণের আগে মূল গেজেট ও সংশ্লিষ্ট গ্রেডের সব ধাপ যাচাই করা প্রয়োজন।

নতুন বেতন একবারে নয়, তিন ধাপে কার্যকরের বিধান

নতুন বেতন কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো বর্ধিত মূল বেতন ধাপে ধাপে প্রদান। তথ্যভান্ডারে সংকলিত আদেশ অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের পর নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্যের একটি অংশ পর্যায়ক্রমে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

সময়কাল ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড
১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পার্থক্যের ৪০% পার্থক্যের ৫০%
১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭ পার্থক্যের ৭০% পার্থক্যের ৭৫%
১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ নতুন মূল বেতন পূর্ণ নতুন মূল বেতন

এখানে শতাংশের হিসাবটি নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ওপর প্রযোজ্য। অর্থাৎ, কোনো কর্মচারীর নতুন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন এবং পুরোনো স্কেলের মূল বেতনের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হবে, তার নির্ধারিত অংশ সংশ্লিষ্ট সময়ের বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

একটি সহজ উদাহরণ

ধরা যাক, একজন কর্মচারীর পুরোনো মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং নতুন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা।

এ ক্ষেত্রে দুই বেতনের পার্থক্য ১০ হাজার টাকা।

প্রথম ধাপে পার্থক্যের ৫০ শতাংশ প্রযোজ্য হলে এই অংশের পরিমাণ হবে ৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ধাপে পার্থক্যের ৭৫ শতাংশ হিসাব করলে তা হবে ৭ হাজার ৫০০ টাকা। তৃতীয় ধাপে পূর্ণ নতুন মূল বেতন কার্যকর হলে মূল বেতন হবে ৩০ হাজার টাকা।

এটি কেবল হিসাব বোঝানোর উদাহরণ। প্রকৃত বেতন নির্ধারণে কর্মচারীর গ্রেড, প্রযোজ্য বিধান, ইনক্রিমেন্ট এবং বেতন নির্ধারণী বিবরণী বিবেচনা করতে হবে।

১ জুলাই থেকে বকেয়া বেতন পাওয়ার বিধান

তথ্যভান্ডারে সংকলিত আদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হওয়ার বিধান।

তবে বকেয়া হিসাব করার সময় নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের জন্য প্রযোজ্য বর্ধিত বেতনের হার বিবেচনা করতে হবে। শুধু নতুন স্কেলের সম্পূর্ণ মূল বেতনকে আগের মাসগুলোর বেতন ধরে সরাসরি বকেয়া হিসাব করা সঠিক হবে না।

প্রকৃত পাওনা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন হবে—

  • ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত বা প্রাপ্য মূল বেতন।
  • নতুন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন।
  • কর্মচারীর প্রযোজ্য গ্রেড।
  • সংশ্লিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত বেতন বৃদ্ধির শতাংশ।
  • ইতোমধ্যে পরিশোধিত বেতন ও ভাতার হিসাব।
  • প্রযোজ্য কর্তন ও সমন্বয়।

বিশেষ সুবিধা বিলুপ্তির বিধানও বকেয়া হিসাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন আদেশ কার্যকর হওয়ার তারিখ পর্যন্ত আহরিত বিশেষ সুবিধা নির্ধারিত নিয়মে বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ করবেন যেভাবে

পুরোনো স্কেল থেকে নতুন স্কেলে বেতন স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন একই নিয়মে নির্ধারিত হবে না। কর্মচারী পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে আছেন, নাকি তার চেয়ে বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন, তার ওপর হিসাব নির্ভর করবে।

প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পাওয়া কর্মচারী

কোনো কর্মচারী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে থাকলে সাধারণভাবে নতুন স্কেলের অনুরূপ গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে তাঁর বেতন নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, তথ্যভান্ডারে পুরোনো ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পাওয়া কর্মচারীর নতুন মূল বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারণের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পাওয়া কর্মচারী

যাঁদের পুরোনো মূল বেতন সংশ্লিষ্ট স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রথমে পুরোনো মূল বেতন থেকে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন বাদ দিয়ে পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে।

এরপর নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে ওই পার্থক্য যোগ করতে হবে। যোগফল নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে মিলে গেলে সেই ধাপে বেতন নির্ধারণ হবে। আর নির্ধারিত কোনো ধাপের সঙ্গে না মিললে পরবর্তী উচ্চতর ধাপ প্রযোজ্য হবে।

তথ্যভান্ডারে দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, পুরোনো মূল বেতন ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা এবং পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা হলে পার্থক্য দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯০ টাকা।

নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ২৫ হাজার টাকা হলে হিসাব হবে—

২৫,০০০ + ১,২৯০ = ২৬,২৯০ টাকা।

নতুন স্কেলে ২৬ হাজার ২৯০ টাকার নির্ধারিত ধাপ না থাকায় উদাহরণটিতে পরবর্তী উচ্চতর ধাপ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে পদোন্নতি, প্রেষণ, ছুটি, সাময়িক বরখাস্ত এবং অবসর-উত্তর ছুটির ক্ষেত্রে আলাদা বিধান রয়েছে। তাই এসব ক্ষেত্রে সাধারণ হিসাব প্রয়োগ না করে সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুসরণ করতে হবে।

বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কবে পাওয়া যাবে

তথ্যভান্ডারে সংকলিত আদেশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির তারিখ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই।

নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের সময় ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি প্রদানের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ নতুন মূল বেতন বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

নতুন যোগদানকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে ন্যূনতম ছয় মাসের কোয়ালিফাইং চাকরির মেয়াদ বিবেচ্য হবে বলে তথ্যভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে।

তবে নতুন নিয়োগ, প্রথম নিয়োগে অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট এবং সরাসরি নবম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রয়েছে। বিশেষ করে বিসিএস ক্যাডারে সরাসরি নবম গ্রেডে নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণ এবং নবম গ্রেডে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণের নিয়ম এক নয়।

আট বছর চাকরির পর উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ

একই পদে দীর্ঘদিন কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্য উচ্চতর গ্রেড একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তথ্যভান্ডারে সংকলিত আদেশে পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর পূর্ণ হলে, চাকরি সন্তোষজনক থাকা সাপেক্ষে নবম বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর আরও ছয় বছর পদোন্নতি ছাড়া কর্মরত থাকলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধানও তুলে ধরা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—

১. উচ্চতর গ্রেড পাওয়া মানেই পদোন্নতি পাওয়া নয়।

২. চাকরির সন্তোষজনক মেয়াদ ও প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

৩. একই পদে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

৪. আগে সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন বিধানের প্রয়োগে তার প্রভাব থাকতে পারে।

৫. স্বয়ংক্রিয় উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও অফিস আদেশের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

তথ্যভান্ডারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে আট বছর পূর্ণ হয়েছে কিন্তু দশ বছর পূর্ণ হয়নি—এমন স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে ওই তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেডের সুবিধার বিধান রয়েছে।

তবে প্রত্যেক কর্মচারীর চাকরিতে যোগদানের তারিখ, একই পদে চাকরির মেয়াদ, পূর্বে পাওয়া আর্থিক সুবিধা এবং প্রযোজ্য বিধান যাচাই না করে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

বাড়িভাড়া ভাতা: ২০২৮ সাল থেকে নতুন হারের বিধান

বাড়িভাড়া ভাতা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো, নতুন মূল বেতন কার্যকর হলেও বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হার কখন থেকে প্রযোজ্য হবে।

তথ্যভান্ডারে সংকলিত আদেশ অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত বা প্রাপ্য অঙ্কে বাড়িভাড়া ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত প্রদানের বিধান রয়েছে। নতুন আদেশে নির্ধারিত শতকরা হার অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতা প্রদানের সময় শুরু হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে।

গ্রেডভিত্তিক বাড়িভাড়া ভাতার হার

গ্রেড ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্ধারিত অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও উল্লেখিত এলাকা অন্যান্য স্থান
১৬–২০ ৬০% ৫০% ৪৫%
১০–১৫ ৫০% ৪০% ৩৫%
৫–৯ ৪৫% ৩৫% ৩০%
১–৪ ৪০% ৩০% ২৫%

এখানে শতাংশের হিসাব মূল বেতনের ভিত্তিতে করা হবে। দ্বিতীয় কলামের বাইরের নির্দিষ্ট শহর ও এলাকার তালিকা মূল আদেশ অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি।

সরকারি বাসস্থানে বসবাসকারী এবং ভাড়াবিহীন বাসস্থানের অধিকারী কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সরকারি বা নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে একত্রে সরকারি বাসস্থানে বসবাস করলে কার নামে বাসা বরাদ্দ রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা ভাতা: কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য কত

তথ্যভান্ডারে চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক বিভিন্ন হার উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্মরত সরকারি কর্মচারী

  • ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৩ হাজার টাকা।
  • ৫০ বছর এক দিন থেকে পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৪ হাজার টাকা।

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগী

বয়স মাসিক চিকিৎসা ভাতা
৫০ বছর পর্যন্ত ৩,০০০ টাকা
৫০ বছর এক দিন থেকে ৬০ বছর ৪,০০০ টাকা
৬০ বছর এক দিন থেকে ৭০ বছর ৫,০০০ টাকা
৭০ বছরের বেশি ৬,০০০ টাকা

একাধিক পারিবারিক পেনশনভোগী থাকলে মূল পেনশনভোগীর প্রাপ্য চিকিৎসা ভাতা আনুপাতিক হারে বণ্টনের বিধানও তথ্যভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে।

এ কারণে পেনশনভোগীর বয়স, পেনশনের ধরন এবং পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান যাচাই করে চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

টিফিন, যাতায়াত, মোবাইল ও শিক্ষা সহায়ক ভাতা

মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর জন্য আলাদা ভাতার বিধান রয়েছে। তথ্যভান্ডারে সংকলিত হার অনুযায়ী—

ভাতার নাম প্রাপ্যতা মাসিক হার
টিফিন ভাতা ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড ৫০০ টাকা
যাতায়াত ভাতা ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড; সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মস্থল হলে ৬০০ টাকা
মোবাইল ভাতা ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব ৫০০ টাকা
মোবাইল ভাতা ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড ১৫০ টাকা
ধোলাই ভাতা যাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ৩০০ টাকা
কার্যভার ভাতা চলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী ১,৫০০ টাকা

টিফিন ভাতার ক্ষেত্রে লাঞ্চ ভাতা বা বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

শিক্ষা সহায়ক ভাতার ক্ষেত্রে তথ্যভান্ডারে সন্তানপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসিক ১ হাজার টাকা প্রদানের বিধান উল্লেখ রয়েছে। বয়সের সনদ দাখিল সাপেক্ষে ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের জন্য এই ভাতা প্রাপ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সরকারি কর্মচারী হলে সন্তানের সংখ্যা গণনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য জনপ্রতি মাসিক ৩ হাজার টাকা হারে, অনধিক দুই সন্তানের জন্য ভাতার বিধানও তথ্যভান্ডারে তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া পাহাড়ি এলাকা, হাওর, দ্বীপ ও চর এলাকায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত শর্তে বিশেষ ভাতা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণকাজে প্রেষণে থাকা নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ১০ শতাংশ প্রেষণ ভাতার বিধান উল্লেখ রয়েছে।

উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা

তথ্যভান্ডারে সংকলিত আদেশ অনুযায়ী, অন্যান্য ভাতার মতো উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্য অঙ্কে অন্যান্য ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত প্রদানের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন আদেশে নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

বাংলা নববর্ষ ভাতার হার আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বলে তথ্যভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে। কর্মচারীদের উৎসব ভাতা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য বছরে দুটি উৎসব ভাতার বিধানও তুলে ধরা হয়েছে। তবে পেনশন সমর্পণ, নিট পেনশনের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শর্তের কারণে ব্যক্তিভেদে হিসাবের পার্থক্য হতে পারে।

অবসরভোগীদের নিট পেনশন কত বাড়বে

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর তথ্যভান্ডারে পেনশনভোগীদের জন্য নিট পেনশনের পরিমাণ অনুযায়ী পাঁচটি স্ল্যাবে বৃদ্ধির হার উল্লেখ করা হয়েছে।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশন বৃদ্ধির হার নতুন নিট পেনশনের নির্ধারিত সীমা
সর্বনিম্ন থেকে ৯,০০০ টাকা ১০০% ১০,০০০–১৮,০০০ টাকা
৯,০০১–২০,০০০ টাকা ৭৫% ১৮,০০১–৩৫,০০০ টাকা
২০,০০১–৩০,০০০ টাকা ৬৫% ৩৫,০০১–৪৯,০০০ টাকা
৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা ৬০% ৪৯,০০১–৬২,০০০ টাকা
৪০,০০১ টাকা ও তদূর্ধ্ব ৫৫% ৬২,০০১–৭০,২০০ টাকা

এখানে নিট পেনশনের স্ল্যাব অনুযায়ী বৃদ্ধির হার এবং নির্ধারিত সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। শুধু বৃদ্ধির শতাংশ দিয়ে পেনশনের চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারণ করা যাবে না।

তথ্যভান্ডারে আরও উল্লেখ রয়েছে, ৭০ হাজার ২০০ টাকার অতিরিক্ত নিট পেনশন ইতোমধ্যে উত্তোলনকারী অবসরভোগী পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার আগে বিদ্যমান নিট পেনশনই পাবেন।

পেনশনও ধাপে ধাপে বাড়ানোর বিধান

নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে সুবিধা প্রদানের বিধান রয়েছে বলে তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সময়কাল নিট পেনশন ২০,০০১ টাকা ও তদূর্ধ্ব নিট পেনশন ১–২০,০০০ টাকা
১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পার্থক্যের ৪০% পার্থক্যের ৫০%
১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭ পার্থক্যের ৭০% পার্থক্যের ৭৫%
১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ নতুন নিট পেনশন পূর্ণ নতুন নিট পেনশন

এ ক্ষেত্রে নতুন স্কেলে নির্ধারিত নিট পেনশন এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশনের ব্যবধানের ওপর সংশ্লিষ্ট শতাংশ প্রযোজ্য হবে।

অবসরভোগীদের জন্য ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হওয়ার বিধানও তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অবসরের তারিখ, অবসর-উত্তর ছুটির অবস্থা, পেনশন সমর্পণের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট বিধান বিবেচনা করা আবশ্যক। তাই সব অবসরভোগীর ক্ষেত্রে একই অঙ্ক প্রযোজ্য হবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

অনলাইনে বেতন নির্ধারণের নিয়ম

তথ্যভান্ডারে নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য iBAS++ ব্যবস্থায় অনলাইনে আবেদন ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হয়েছে।

সাধারণভাবে প্রক্রিয়াটি হলো—

প্রথম ধাপ: নির্ধারিত iBAS++ ব্যবস্থায় প্রবেশ করে Pay Fixation অপশন নির্বাচন করতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পরিচয়, পদ, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন এবং চাকরির রেকর্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপি দিয়ে পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।

চতুর্থ ধাপ: নির্ধারিত ছক পূরণ করে ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার বা ডিডিওর কাছে জমা দিতে হবে।

পঞ্চম ধাপ: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাকরির রেকর্ড ও বেতনের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

ষষ্ঠ ধাপ: হিসাবরক্ষণ অফিস যাচাই ও অনুমোদন দিলে বেতন নির্ধারণী বিবরণীর ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে।

তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে, গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে লগইন এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় পার্থক্য রয়েছে। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বই অনুযায়ী চাকরি ও বেতনের তথ্য সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

পরিচয়পত্রের তথ্য এবং চাকরির রেকর্ডে অমিল থাকলে বেতন নির্ধারণের আগে তা সংশোধন করা প্রয়োজন হতে পারে। চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণী বিবরণীর ভিত্তিতে বেতন পরিশোধ করা হবে এবং কম বা বেশি পরিশোধ হয়ে থাকলে নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে বলে তথ্যভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে।

কারা নতুন আদেশের আওতার বাইরে

নতুন বেতন আদেশের আওতা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। তথ্যভান্ডারে সংকলিত বিধান অনুযায়ী, সব ধরনের সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই আদেশের আওতায় পড়বেন না।

উল্লেখিত ব্যতিক্রমের মধ্যে রয়েছে—

  • বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ।
  • নির্ধারিত ব্যতিক্রম ছাড়া প্রতিরক্ষা সার্ভিসের কর্মচারী।
  • পুলিশ বাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কর্মচারী।
  • পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শ্রেণির শ্রমিক।
  • শিক্ষানবিশ ও প্রশিক্ষণার্থী।
  • আউটসোর্সিংয়ে নিযুক্ত ব্যক্তি।
  • দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োগের নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় নিযুক্ত শ্রমিক।
  • চুক্তিভিত্তিক অথবা খণ্ডকালীন ভিত্তিতে নিযুক্ত ব্যক্তি।

কোনো কর্মচারী নতুন আদেশের আওতায় পড়বেন কি না, তা তাঁর নিয়োগের ধরন, পদ, প্রতিষ্ঠান এবং প্রযোজ্য বিধান যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে।

পুরোনো বেতন আদেশের বিষয়ে কী বলা হয়েছে

তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ রহিত করা হয়েছে। তবে আগের আদেশের অধীনে থাকা ভাতা, সুযোগ-সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন, আদেশ, অফিস স্মারক ও পরিপত্র নতুন আদেশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হলে বলবৎ থাকার বিধান রয়েছে।

এ কারণে পুরোনো কোনো ভাতা বা সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেখতে হবে, সেটি নতুন আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো নতুন নির্দেশনা জারি হয়েছে কি না।

সরকারি কর্মচারীদের এখন কী করা উচিত

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর বিভিন্ন বিধান কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে কর্মচারীদের নিজেদের বেতন ও চাকরির রেকর্ড যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতন এবং সংশ্লিষ্ট গ্রেড নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নতুন স্কেলে কোন ধাপে বেতন নির্ধারিত হচ্ছে, তা হিসাব করে দেখতে হবে। তৃতীয়ত, ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড, পদোন্নতি এবং প্রযোজ্য ভাতার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত চাকরির রেকর্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধান মিলিয়ে নিতে হবে।

অবসরভোগীদের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের নিট পেনশন, অবসরের তারিখ এবং প্রযোজ্য স্ল্যাব যাচাই করা প্রয়োজন। আর অনলাইনে বেতন নির্ধারণের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরির রেকর্ড ও বেতনের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি।

শেষ কথা

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর তথ্যভান্ডার সরকারি কর্মচারী ও অবসরভোগীদের জন্য বেতন, ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড, বিভিন্ন ভাতা এবং পেনশনসংক্রান্ত বিধান এক জায়গায় বোঝার একটি সহায়ক সংকলন। এতে গ্রেডভিত্তিক বেতনের ধাপ, বর্ধিত বেতন প্রদানের সময়সূচি এবং বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

তবে তথ্যভান্ডারটি মূল গেজেটের বিকল্প নয়। সরকারি কাজে বেতন নির্ধারণ, বকেয়া হিসাব, পেনশন নির্ধারণ কিংবা উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা দাবি করার আগে বাংলাদেশ গেজেটের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ, অর্থ বিভাগের নির্দেশনা এবং নিজ নিজ হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই করা তথ্য অনুসরণ করা উচিত।

আপনার মতামত লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।