সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর পেনশনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানতে গিয়ে অনেক পেনশনারকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কারও প্রয়োজন পেনশনসংক্রান্ত পরিচিতি নম্বর (EPPO/PPO), কেউ জানতে চান মাসিক পেনশনের টাকা ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে কি না, আবার কারও প্রয়োজন ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের নিয়ম। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে পেনশন যাচাই, লাইফ ভেরিফিকেশন এবং মাসিক পেনশনের নীট অর্থ হিসাব করার বিষয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
পেনশনারদের এসব প্রয়োজন বিবেচনায় সামরিক ও বেসামরিক পেনশনসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের জন্য পৃথক সরকারি ওয়েবসাইট রয়েছে। সঠিক ওয়েবসাইট ব্যবহার, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত রাখা এবং পেমেন্টের তথ্য বুঝতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক তথ্য নিজেই যাচাই করা সম্ভব।
পেনশনসংক্রান্ত তথ্য গাইডে EPPO/PPO নম্বর অনুসন্ধান, পেমেন্ট স্ট্যাটাস বোঝা, NID-সংক্রান্ত নির্দেশনা, ব্যাংক ও মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যোগাযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
অনলাইনে EPPO/PPO নম্বর জানার নিয়ম
পেনশনসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে EPPO/PPO নম্বর গুরুত্বপূর্ণ। এই নম্বর ব্যবহার করে পেনশনারের পরিচিতি ও পেনশনসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানে সুবিধা হতে পারে।
সামরিক ও বেসামরিক পেনশনারদের জন্য তথ্য অনুসন্ধানের ওয়েবসাইট আলাদা। তাই প্রথমে নিজের পেনশনের ধরন অনুযায়ী সঠিক ওয়েবসাইট নির্বাচন করতে হবে।
সামরিক পেনশনারদের জন্য নির্দেশনা
সামরিক পেনশনাররা CCDF-এর সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে পেনশনসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করতে পারেন।
এ জন্য অনুসরণ করতে হবে কয়েকটি ধাপ।
১. প্রথমে ccdfpfm.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. হোমপেজে ‘Pension Payment Information’ অপশনটি খুঁজুন।
৩. ওই অপশনের নিচে থাকা ‘Click here’ বাটনে ক্লিক করুন।
৪. পরবর্তী পেজে চাওয়া পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিন। গাইড অনুযায়ী, NID বা স্মার্ট আইডি এবং জন্মতারিখ প্রয়োজন হতে পারে।
৫. প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাবমিট করুন।
৬. ফলাফলে EPPO/PPO নম্বরসহ যে তথ্য দেখানো হবে, তা যাচাই করুন।
নম্বরটি ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে বলে নিরাপদ স্থানে লিখে রাখা যেতে পারে। তবে ওয়েবসাইটের বর্তমান বিন্যাস ও তথ্যের ঘর পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পর্দায় প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
বেসামরিক পেনশনাররা যেভাবে তথ্য পাবেন
বেসামরিক সরকারি পেনশনারদের জন্য রয়েছে CAFO-এর সরকারি ওয়েবসাইট।
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘Pension Payment Information’ অপশনের ‘Click Here’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পেনশনসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করা যেতে পারে।
অনলাইনে তথ্য না পাওয়া গেলে পেনশন মঞ্জুরি আদেশ বা PPO কপি পরীক্ষা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে পেনশন প্রদানকারী ব্যাংকের শাখা কিংবা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।
পেনশনের টাকা ছাড় হয়েছে কি না, বুঝবেন যেভাবে
পেনশনারদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, মাসিক পেনশনের টাকা ছাড় হয়েছে কি না কিংবা ব্যাংকে পাঠানোর প্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে রয়েছে।
পেনশন পেমেন্টের তথ্য দেখতে গিয়ে কয়েকটি ইংরেজি শব্দ সামনে আসতে পারে। এগুলোর অর্থ বুঝতে পারলে পেমেন্টের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ হয়।
‘EFT Cleared’ স্ট্যাটাসের অর্থ কী?
গাইডে দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘EFT Cleared’ স্ট্যাটাস অর্থ পরিশোধের ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার নির্দেশক।
তবে পেনশনারের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা হিসাবের লেনদেন পরীক্ষা করা উচিত।
‘EFT File Transmitted’ দেখালে কী বুঝবেন?
‘EFT File Transmitted’ স্ট্যাটাসের অর্থ পেমেন্ট ফাইল ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। এটি দেখালেই অর্থ নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
এ অবস্থায় পেনশনারের উচিত ব্যাংক হিসাবের লেনদেন যাচাই করা। অর্থ জমা না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা অথবা পেনশন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
‘Net Amount’ ঘরে কী তথ্য থাকে?
পেনশন পেমেন্টের তথ্যে ‘Net Amount’ ঘরে প্রদেয় নীট অর্থের পরিমাণ দেখানো হতে পারে।
পেনশন কোন মাসের জন্য দেওয়া হচ্ছে, কোন মাসে হিসাবভুক্ত হয়েছে এবং অর্থ পাঠানোর তারিখ কী—এসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পেনশনের মাস, হিসাবভুক্তির মাস ও ব্যাংকে অর্থ পাঠানোর তারিখ সব সময় একই নাও হতে পারে।
তাই শুধু একটি স্ট্যাটাস দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পেমেন্টের সংশ্লিষ্ট সব তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
১৩ ডিজিটের NID নিয়ে সমস্যায় পড়লে করণীয়
পুরোনো জাতীয় পরিচয়পত্র ১৩ ডিজিটের হওয়ায় অনলাইনে তথ্য যাচাইয়ের সময় কারও কারও সমস্যা হতে পারে।
গাইডে ১৩ ডিজিটের NID-এর শুরুতে জন্মসালের চারটি সংখ্যা যুক্ত করে ১৭ ডিজিটের নম্বর তৈরির একটি পদ্ধতি দেখানো হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে, কারও জন্মসাল ১৯৬৫ হলে এবং তাঁর পুরোনো NID নম্বর ১৩ ডিজিটের হলে জন্মসালের চারটি সংখ্যা সামনে যুক্ত করে ১৭ ডিজিটের একটি নম্বর তৈরি করা যায়।
তবে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলেই সংশ্লিষ্ট সরকারি ডেটাবেজে পরিচয় নিশ্চিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অনলাইন পোর্টালে নম্বর গ্রহণ না করলে অথবা তথ্যের সঙ্গে পরিচয় না মিললে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।
ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্রের ধরন ও নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ।
পেনশনসংক্রান্ত কাজের আগে যেসব তথ্য প্রস্তুত রাখবেন
পেনশনসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান বা সংশোধনের কাজে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাওয়া যায়।
প্রয়োজন অনুযায়ী নিচের নথি ও তথ্যগুলো কাছে রাখা যেতে পারে—
- ১৭ ডিজিটের NID অথবা ১০ ডিজিটের স্মার্ট আইডি।
- জন্মতারিখ।
- পেনশন মঞ্জুরি আদেশ বা PPO কপি।
- EFT-তে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।
- ব্যাংক হিসাবের তথ্য।
- প্রয়োজন হলে ব্যাংক হিসাবের চেকের পাতা।
- পেনশন প্রদানকারী ব্যাংক শাখা বা সংশ্লিষ্ট পে-পয়েন্টের নাম।
সব ধরনের কাজের জন্য একই কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। কোন সেবার জন্য কী কী নথি লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের নিয়ম
পেনশনের টাকা গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব বা নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
গাইডে সামরিক পেনশনারদের ক্ষেত্রে CCDF-এর ‘Cases submitted to CCDF’ বিভাগে বিভিন্ন আবেদনসংক্রান্ত সেবার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে বকেয়া বিল, মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং ব্যাংকসংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের বিষয়ও রয়েছে।
মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের পাশাপাশি বর্তমান ও নতুন নম্বরের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।
অন্যদিকে, ব্যাংক হিসাব পরিবর্তনের জন্য আগের ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (NOC), নতুন হিসাবের চেকের পাতা এবং সংশ্লিষ্ট আবেদন প্রয়োজন হতে পারে।
তবে আবেদন করার আগে নির্ধারিত ফরমে কী কী নথি চাওয়া হয়েছে, তা যাচাই করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত করা উচিত।
পেনশনারের মৃত্যু হলে কী করতে হবে?
পেনশনারের মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করা প্রয়োজন। গাইডে CCDF-এর মৃত্যু-সংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়ার ফরমের উল্লেখ রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে পেনশনারের নাম, মোবাইল নম্বর, NID এবং মৃত্যুর তারিখের মতো তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। তবে কোন নথি বাধ্যতামূলক, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।
মৃত্যুর পর পারিবারিক পেনশন বা অন্য কোনো প্রাপ্য সুবিধার বিষয় থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি। অনুমানভিত্তিক তথ্য জমা না দিয়ে সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে আবেদন করা উচিত।
লাইফ ভেরিফিকেশন করতে সমস্যা হলে কী করবেন?
পেনশনসংক্রান্ত সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিচয় বা জীবনসংক্রান্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। গাইডে বেসামরিক পেনশনারদের জন্য CAFO-এর ওয়েবসাইটে ‘পেনশনার ভেরিফিকেশন’ অ্যাপের মাধ্যমে লাইফ ভেরিফিকেশনের উল্লেখ রয়েছে।
অনলাইনে যাচাই সম্পন্ন করতে সমস্যা হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এরপরও সমস্যার সমাধান না হলে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
তবে প্রত্যেক পেনশনারের ক্ষেত্রে লাইফ ভেরিফিকেশনের সময়সীমা ও প্রযোজ্য নিয়ম একই—এমন ধরে নেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সরকারি পেনশন ওয়েবসাইট না খুললে যেসব পদক্ষেপ নেবেন
অনেক সময় সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা সমস্যার সম্মুখীন হন। সাইট ধীরগতিতে চলা, ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা অথবা ব্রাউজারের কারিগরি জটিলতার কারণে এমন হতে পারে।
এ ধরনের সমস্যা হলে নিচের পদক্ষেপগুলো চেষ্টা করা যেতে পারে—
১. কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. ওয়েবসাইটের ঠিকানা সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি না যাচাই করুন।
৩. অন্য ব্রাউজার অথবা ইনকগনিটো উইন্ডো ব্যবহার করুন।
৪. ব্রাউজারের ক্যাশ ও কুকিজ পরিষ্কার করে আবার চেষ্টা করুন।
৫. ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে মোবাইল ডাটা অথবা মোবাইল ডাটার পরিবর্তে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে দেখুন।
৬. মোবাইল ফোনে সমস্যা হলে কম্পিউটার থেকে চেষ্টা করুন।
৭. এরপরও সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হটলাইনে যোগাযোগ করুন।
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে না পারলেই যে পেনশনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে না, তা নয়। বিকল্প হিসেবে PPO কপি, পেনশন মঞ্জুরি আদেশ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট কিংবা সংশ্লিষ্ট পে-পয়েন্টের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
মাসিক নীট পেনশনের হিসাব নিজেই মিলিয়ে দেখুন
পেনশনের মূল অঙ্কের সঙ্গে বিভিন্ন সংযোজন ও কর্তনের কারণে হাতে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় গাইডে একটি নীট পেনশন ক্যালকুলেটর রাখা হয়েছে।
এতে মাসিক মূল পেনশন, পেনশন ভাঙানোর হার, চিকিৎসা ভাতা, অন্যান্য সংযোজন, আয়কর, ব্যাংক চার্জ এবং অন্যান্য কর্তনের তথ্য বসিয়ে আনুমানিক নীট পেনশন হিসাব করা যায়।
ক্যালকুলেটরটি সম্ভাব্য মাসিক অর্থের পাশাপাশি বার্ষিক আনুমানিক হিসাবও দেখায়। ব্যবহারকারী চাইলে বিলের ‘Net Amount’-এর সঙ্গে নিজের হিসাবের পার্থক্যও মিলিয়ে দেখতে পারেন।
তবে এই ক্যালকুলেটর কোনো সরকারি পেনশন নির্ধারণব্যবস্থা নয়। এতে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই হিসাব তৈরি হয়। ভুল তথ্য দিলে ফলাফলও ভুল হতে পারে।
তাই ক্যালকুলেটরে পাওয়া অঙ্ককে চূড়ান্ত ধরে না নিয়ে পেনশন মঞ্জুরি আদেশ, সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট তথ্য এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত।
সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য
গাইডে সাধারণ নাগরিকদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ওয়েবসাইট হিসেবে upension.gov.bd উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি প্রচলিত সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের সেবা থেকে আলাদা ব্যবস্থা। ফলে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের নিবন্ধন, যোগ্যতা বা সুবিধা সম্পর্কে জানতে হলে সংশ্লিষ্ট স্কিমের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
একইভাবে, সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়া পেনশনারদের EPPO/PPO নম্বর কিংবা মাসিক পেনশনের অর্থসংক্রান্ত তথ্যের জন্য তাঁদের সংশ্লিষ্ট পেনশন কর্তৃপক্ষের সেবা ব্যবহার করা উচিত।
পেনশনসংক্রান্ত যোগাযোগের তথ্য
গাইডে সামরিক ও বেসামরিক পেনশনারদের জন্য নিচের যোগাযোগের তথ্য দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগের আগে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে তথ্যগুলো হালনাগাদ কি না যাচাই করে নেওয়া ভালো।
সামরিক পেনশনসংক্রান্ত যোগাযোগ
- ওয়েবসাইট: ccdfpfm.gov.bd
- হটলাইন: 01769-590054, 01769-590055, 01769-590104
- ফোন: 02-224415144, 02-224415143
- ইমেইল: info@ccdfpfm.gov.bd
- ঠিকানা: ওল্ড লগ এরিয়া সদর দপ্তর, ঢাকা সেনানিবাস, ঢাকা-১২০৬।
বেসামরিক পেনশনসংক্রান্ত যোগাযোগ
- ওয়েবসাইট: cafopfm.gov.bd
- হটলাইন: +880 9609 000 555
- ঠিকানা: হিসাব ভবন, তৃতীয় তলা, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০।
পেনশনারদের জন্য শেষ পরামর্শ
পেনশনসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা সমাধানের আগে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সেবা নির্বাচন করা জরুরি। EPPO/PPO নম্বর জানতে সংশ্লিষ্ট পোর্টালে তথ্য অনুসন্ধান, পেমেন্টের অবস্থা বুঝতে বিলের স্ট্যাটাস পরীক্ষা এবং ব্যাংকে অর্থ জমার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাচাই করা প্রয়োজন।
NID-সংক্রান্ত জটিলতা, ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন, মোবাইল নম্বর সংশোধন অথবা লাইফ ভেরিফিকেশনের সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব ও পেনশনসংক্রান্ত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অপরিচিত লিংক বা ব্যক্তির কাছে এসব তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
সঠিক সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করাই পেনশনসংক্রান্ত কাজ সহজ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।




