পে-স্কেল

সুখবর: নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট বিজি প্রেসে, ছাপানোর কাজ চলছে

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পে-স্কেলের গেজেটের কপি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস)-এ পৌঁছেছে এবং তা ছাপানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তবে গেজেটের মুদ্রণ কার্যক্রম শুরু হওয়া এবং বাংলাদেশ গেজেটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়া—দুটি আলাদা ধাপ। ফলে বিজি প্রেসে ছাপানোর কাজ চললেও সরকারি প্রজ্ঞাপনটি কখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।

গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে

নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিক প্রশাসনিক ও আইনগত ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে। ৩১ আগস্ট নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন তৈরির কাজ শুরু হয়। এরপর রেজল্যুশন ও মুদ্রণসংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পে-স্কেলের খসড়া ও রেজল্যুশন বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি এগিয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বরও নতুন পে-স্কেলের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার খবর প্রকাশিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গেজেট প্রকাশের কাজ এগিয়ে চলার কথা জানান।

এখন বিজি প্রেসে মুদ্রণ কার্যক্রম চলার তথ্য সত্য হলে, এটি গেজেট প্রকাশের একেবারে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুমোদিত কাঠামোতে বেতন কত হচ্ছে

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ।

এ ছাড়া ৯ম গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা করার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রেডে বিসিএস ক্যাডারসহ প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ প্রবেশ করেন।

কার্যকর হবে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে

নবম জাতীয় পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে গেজেট প্রকাশের তারিখ পরবর্তী হলেও কার্যকরের তারিখ ১ জুলাই থেকে রাখার বিষয়টি অনুমোদিত কাঠামোর অংশ।

এর অর্থ হলো, গেজেট প্রকাশের পর নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ, পে-ফিক্সেশন, বকেয়া হিসাব এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সমন্বয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার পথ আরও পরিষ্কার হবে।

কেন গেজেট নিয়ে এত অপেক্ষা?

৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দ্রুত গেজেট প্রকাশের প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে একাধিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রজ্ঞাপনের ভাষা ও বিধান চূড়ান্ত করা, আইনগত যাচাই, প্রয়োজনীয় এসআরও নম্বর এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনার আনুষ্ঠানিকতা।

এ কারণে আগে কয়েক দফা সম্ভাব্য প্রকাশের সময় সামনে এলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষ ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্তও আইনগত ভেটিং ও আনুষ্ঠানিকতার খবর পাওয়া গেছে।

বিজি প্রেসে ছাপা মানেই কি গেজেট প্রকাশ হয়ে গেছে?

না। এ বিষয়টি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিজি প্রেসে গেজেটের মুদ্রণ কার্যক্রম চলা মানে প্রকাশনার প্রস্তুতি অনেক দূর এগিয়েছে; কিন্তু বাংলাদেশ গেজেটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে চূড়ান্ত প্রকাশিত গেজেট বলা যাবে না।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গেজেট হয়ে গেছে’ বা ‘গেজেট প্রকাশ হয়ে গেছে’—এ ধরনের পোস্ট দেখলে সরকারি প্রজ্ঞাপনের নম্বর, তারিখ ও বাংলাদেশ গেজেটের আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা যাচাই করা জরুরি।

এখন কী হতে পারে?

বিজি প্রেসে মুদ্রণ কার্যক্রম শেষ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা। গেজেট প্রকাশিত হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে—কোন তারিখ থেকে নতুন বেতন কার্যকর, গ্রেডভিত্তিক মূল বেতন, ইনক্রিমেন্টের নিয়ম, ভাতা, বকেয়া পরিশোধ, পে-ফিক্সেশন এবং বাস্তবায়নের ধাপ সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল এখন প্রজ্ঞাপন প্রকাশের একেবারে শেষ পর্যায়ের কার্যক্রমে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল।

সারকথা: বিজি প্রেসে গেজেটের মুদ্রণ কাজ চলমান থাকার তথ্যটি সত্য হলে, নবম জাতীয় পে-স্কেলের অপেক্ষার শেষ ধাপটি এখন দৃশ্যমান। সরকারি চাকরিজীবীদের নজর এখন আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের দিকে—যার পরই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *