বিজি প্রেসে নবম পে-স্কেলের গেজেট ছাপার কাজ চলছে, রবিবার মিলতে পারে বড় ঘোষণা
নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সর্বশেষ তথ্য ও বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বহুল প্রতীক্ষিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়—বিজি প্রেসে গেজেট ছাপানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই বিজি প্রেসে গেজেট মুদ্রণের কাজ চলমান রয়েছে—এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের কাছ থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে কাজের অগ্রগতির কিছু দৃশ্যও দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব দৃশ্য বা তথ্যের আনুষ্ঠানিক সরকারি নিশ্চয়তা এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে চূড়ান্ত গেজেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সূত্রনির্ভর অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নবম পে-স্কেলের রেজুলেশন বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। পরবর্তী সময়ে আইনি যাচাইসহ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া এগোয়।
কেন বিজি প্রেসের কাজটি গুরুত্বপূর্ণ
সরকারি কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন গেজেট আকারে প্রকাশের আগে খসড়া প্রস্তুত, অনুমোদন, আইনি যাচাই, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং মুদ্রণ—একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়। নবম পে-স্কেলের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় ধরে এসব ধাপ সম্পন্ন করার খবর এসেছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভা ৩১ আগস্ট নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন দেয়। এরপর গেজেট প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা এগিয়ে নেওয়া হয়।
এখন যদি সত্যিই বিজি প্রেসে চূড়ান্ত গেজেটের মুদ্রণ শুরু হয়ে থাকে, তাহলে সেটি পুরো প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে মুদ্রণ শেষ হওয়া এবং বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পাওয়া—দুটি আলাদা বিষয়। তাই শুধু মুদ্রণকাজ শুরু হয়েছে বলেই গেজেট ইতোমধ্যে জারি হয়ে গেছে—এমনটি বলা ঠিক হবে না।
‘আজ নয়, রবিবার’—কেন এমন আলোচনা?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের কাছ থেকে গেজেট মুদ্রণের অগ্রগতির তথ্য পাওয়া গেলেও তারা বিষয়টি প্রকাশ্যে জানাতে চাইছেন না। বরং ‘যা বলার রবিবার বলা হবে’—এমন ইঙ্গিতই দেওয়া হচ্ছে।
এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা চূড়ান্ত কপি হাতে পাওয়ার বিষয়টি রবিবারের দিকে স্পষ্ট হতে পারে। তবে এটি এখনো একটি সূত্রনির্ভর ধারণা; সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট দিনকে নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে অবশ্য নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশকে ‘শেষ পর্যায়ের’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ পর্যায়ে, আবার কোথাও দ্রুত গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতির কথা এসেছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের নজর এখন গেজেটের দিকে
নবম পে-স্কেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত কাঠামোর বাস্তবায়নের চূড়ান্ত নির্দেশনা গেজেটেই স্পষ্ট হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। নতুন কাঠামোর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে।
তবে নতুন মূল বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর না হয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত মূল বেতনের অতিরিক্ত অংশ তিন ধাপে এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ক্ষেত্রে ভিন্ন অনুপাতে বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গেজেট প্রকাশের পর কী হবে?
গেজেট প্রকাশের পরই মূলত শুরু হবে বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নতুন বেতন নির্ধারণ, পে-ফিক্সেশন, বেতন-ভাতার হিসাব, বকেয়া পাওনা নির্ধারণ এবং সফটওয়্যার/আইবাস++ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কাজ এগোবে।
বিশেষ করে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলে, গেজেট প্রকাশের পর ১ জুলাই থেকে প্রাপ্য সুবিধা কীভাবে হিসাব করা হবে—এটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যতম প্রধান আগ্রহের বিষয়।
তবে এসব হিসাবের চূড়ান্ত পদ্ধতি নিয়ে অনুমাননির্ভর তথ্যের পরিবর্তে গেজেটে প্রকাশিত নির্দেশনাকেই ভিত্তি হিসেবে নেওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ প্রান্তে
নবম পে-স্কেল নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কখনো নির্দিষ্ট দিনে গেজেট প্রকাশের খবর ছড়িয়েছে, আবার শেষ মুহূর্তে তা হয়নি। সর্বশেষ প্রতিবেদনগুলোতেও গেজেটকে প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন বিজি প্রেসে মুদ্রণকাজ সত্যিই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে থাকলে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান খুব কাছাকাছি—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত নিশ্চিত তথ্য হবে বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই।
অর্থাৎ, শুক্রবারের সর্বশেষ অগ্রগতির পর সরকারি চাকরিজীবীদের চোখ এখন আগামী কয়েক দিনের দিকে। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো ‘রবিবার’কেন্দ্রিক আলোচনার বাস্তবতা কতটা, সেটিও স্পষ্ট হবে গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে।
সুতরাং, বিজি প্রেসে মুদ্রণকাজ চলার খবরকে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা গেলেও, আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে কোনো নির্দিষ্ট দিনকে চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

