প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্রসরকারি চাকরির নিয়ম

নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের শেষ ধাপ, এখন এসআরও নম্বরের অপেক্ষা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬-এর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পর্যায়ে রয়েছে। এই আইনি যাচাই শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় এসআরও নম্বর সংযোজন করে গেজেট প্রকাশের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘আর মাত্র একটি ধাপ বাকি’—এমন দাবির পেছনে গেজেট প্রকাশের চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে একটি বাস্তব যোগসূত্র রয়েছে। তবে এসআরও নম্বর বসানো হয়েছে বা গেজেট ইতোমধ্যে প্রকাশের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত—এমন সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর কোথায় আটকে ছিল প্রক্রিয়া

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর প্রজ্ঞাপন তৈরির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসে এবং পরবর্তী সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়।

সর্বশেষ ১৮ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপনের খসড়া গত বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য উঠেছে। অর্থাৎ এখন মূলত আইনি যাচাই ও সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।

এসআরও নম্বর কেন গুরুত্বপূর্ণ

নতুন পে স্কেলের ক্ষেত্রে শুধু একটি সাধারণ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করলেই সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বাস্তবায়নের সব বিষয় একসঙ্গে শেষ হবে না। বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক এসআরও বা বিধিবদ্ধ সরকারি আদেশ জারির বিষয়টিও সামনে এসেছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে মোট সাতটি পৃথক এসআরও থাকার কথা। এর আওতায় বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিধান নির্ধারণ করা হবে।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হচ্ছে, প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে এসআরও নম্বর সংযোজন করা হলেই বহুল প্রতীক্ষিত গেজেট প্রকাশের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হবে।

নতুন পে স্কেলে কী থাকছে

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গেজেটের চূড়ান্ত ভাষা ও বাস্তবায়ন নির্দেশনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত খসড়া বা বিভিন্ন সূত্রের তথ্যকে চূড়ান্ত ধরে বেতন নির্ধারণ করা যাবে না।

বিশেষ করে—

  • নতুন বেসিক নির্ধারণের পদ্ধতি
  • বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট
  • পদোন্নতির পর বেতন ফিক্সেশন
  • উচ্চতর গ্রেড
  • বাড়িভাড়া
  • চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা
  • বকেয়া অর্থ সমন্বয়
  • পেনশন ও অবসর সুবিধা

এসব বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা গেজেটেই স্পষ্ট হবে।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও হাতে আসবে কবে?

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে নতুন বেসিকের পুরো আর্থিক সুবিধা একবারে দেওয়ার পরিবর্তে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

এ কারণে গেজেট প্রকাশের পর সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকবে বেতন ফিক্সেশন ও বকেয়া হিসাব নিয়ে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশের পরই প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আইবাস++-এও আসছে পরিবর্তন

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য iBAS++ ব্যবস্থাকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নতুন বেতন নির্ধারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, যোগদানের তারিখ, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থাৎ গেজেট প্রকাশের পর শুধু কাগজে প্রজ্ঞাপন জারি করাই শেষ ধাপ নয়; এরপর প্রশাসনিক আদেশ, এসআরও, সফটওয়্যার আপডেট এবং বেতন পুনর্নির্ধারণ—সব মিলিয়ে বাস্তবায়নের কাজ এগোবে।

তাহলে এখন আসলে কী অপেক্ষা?

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যগুলো একত্র করলে নবম পে স্কেলের বর্তমান অবস্থাকে এভাবে দেখা যায়—

মন্ত্রিসভায় অনুমোদন → খসড়া প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত → বিজি প্রেস/অর্থ বিভাগের প্রক্রিয়া → আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং → প্রয়োজনীয় সংশোধন ও আনুষ্ঠানিকতা → এসআরও/প্রজ্ঞাপন জারি → গেজেট প্রকাশ → আইবাস++-এ বেতন পুনর্নির্ধারণ।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়া এবং এরপর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট এসআরও প্রকাশ

তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুদিনের অপেক্ষা যে শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে—সাম্প্রতিক তথ্যগুলো তা স্পষ্ট করছে। তবে ‘আজই গেজেট’, ‘কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গেজেট’ কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশ হবে—এ ধরনের দাবি সরকারি প্রজ্ঞাপন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সারকথা: নবম পে স্কেলের মূল সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত। এখন প্রজ্ঞাপনের আইনি যাচাই ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই গেজেট প্রকাশের পথ খুলবে। আর গেজেট প্রকাশের পরই শুরু হবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—বেতন ফিক্সেশন, বকেয়া সমন্বয় এবং iBAS++-এ নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা।