মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশিত পোস্ট ১৬১টি ক্যাটাগরি ২০টি
সর্বশেষ আপডেট ১১:২৩ অপরাহ্ণ লাইভ

পে স্কেল • পেনশন • ছুটি • সরকারি প্রজ্ঞাপন ও গেজেটের সর্বশেষ আপডেট

সরকারি আপডেট
সরকারি ওয়েবসাইটের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন, গেজেট ও পরিপত্র এখানে দেখা যাবে
পেনশন

সরকারি পেনশন ক্যালকুলেটর ২০২৬: শেষ মূল বেতন ও চাকরিকালের তথ্য দিলেই জানুন মাসিক পেনশন, আনুতোষিক ও এককালীন পাওনার হিসাব

সরকারি পেনশন ক্যালকুলেটর ২০২৬: শেষ মূল বেতন ও চাকরিকালের তথ্য দিলেই জানুন মাসিক পেনশন, আনুতোষিক ও এককালীন পাওনার হিসাব

সরকারি চাকরি থেকে অবসরের আগে সম্ভাব্য পেনশন ও এককালীন প্রাপ্য অর্থের হিসাব জানতে আগ্রহী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তৈরি হয়েছে ‘সরকারি পেনশন ক্যালকুলেটর (নবম পে স্কেল ২০২৬)’। এই ক্যালকুলেটরে শেষ আহরিত মূল বেতন, পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, পাওনা ছুটির মাস, বয়স এবং পিআরএলে ইনক্রিমেন্টের তথ্য দিয়ে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন, আনুতোষিক, ছুটি নগদায়ন ও বিভিন্ন ভাতার হিসাব দেখা যায়। তবে এটি একটি হিসাব-সহায়ক টুল; এর ফলাফল সরকারি হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিকল্প নয়।

পেনশন হিসাব সহজ করতে নতুন উদ্যোগ

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক পরিকল্পনায় পেনশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অবসরের সময় কত টাকা এককালীন পাওয়া যেতে পারে, মাসে কত টাকা পেনশন আসতে পারে এবং চিকিৎসা ও উৎসব ভাতাসহ বছরে মোট আয় কত হতে পারে—এসব প্রশ্নের উত্তর আগে থেকে জানা থাকলে ব্যক্তিগত বাজেট তৈরি করা সহজ হয়।

এই প্রয়োজন বিবেচনায় তৈরি করা ক্যালকুলেটরটিতে একাধিক তথ্য ইনপুট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তথ্য পরিবর্তন করে সম্ভাব্য হিসাবও দেখা যায়। পাশাপাশি হিসাবের বিবরণী A4 কাগজে প্রিন্ট করার সুবিধা রয়েছে, যা ব্যক্তিগত নথি হিসেবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, অর্থ বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ নামে একটি পৃথক পাতা রয়েছে। পেনশন ও বেতনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ ও গেজেট অনুসরণ করা জরুরি।

ক্যালকুলেটরে যেসব তথ্য দিতে হবে

হিসাব তৈরির জন্য প্রথমে কয়েকটি মৌলিক তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে।

১. শেষ আহরিত মূল বেতন: অবসরের আগে প্রযোজ্য শেষ মূল বেতনের পরিমাণ দিতে হবে। ক্যালকুলেটরে পিআরএলে ইনক্রিমেন্টের জন্যও আলাদা ঘর রয়েছে। ইনক্রিমেন্ট প্রযোজ্য না হলে সেখানে শূন্য রাখা যায়।

২. পেনশনযোগ্য চাকরিকাল: ক্যালকুলেটরে পাঁচ বছর থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের বিকল্প রয়েছে। নির্বাচিত চাকরিকালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেনশন হার ব্যবহার করে গ্রস পেনশন হিসাব করা হয়।

৩. পাওনা ছুটির মাস: ছুটি নগদায়নের হিসাবের জন্য ছুটির মাস উল্লেখ করতে হবে। ক্যালকুলেটরটিতে সর্বোচ্চ ১৮ মাস পর্যন্ত ছুটির হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে।

৪. বর্তমান বয়স: বয়সের তথ্য ব্যবহার করে চিকিৎসা ভাতার সম্ভাব্য হার নির্ধারণ করা হয়।

৫. ভাতার হার: ক্যালকুলেটরে বর্তমান হার এবং ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে প্রযোজ্য বলে চিহ্নিত নতুন হারের দুটি বিকল্প রয়েছে। তবে এই তারিখ ও হার সরকারি আদেশের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

চাকরিকাল অনুযায়ী পেনশনের হার কত?

ক্যালকুলেটরের সূত্র অনুযায়ী, চাকরিকালের ভিত্তিতে প্রথমে গ্রস পেনশন নির্ধারণ করা হয়। এতে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ৯০ শতাংশ হার দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে পাঁচ বছরের চাকরিকালের জন্য ব্যবহৃত হার ২১ শতাংশ।

নির্বাচিত কয়েকটি চাকরিকালের হার নিচে দেওয়া হলো:

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ক্যালকুলেটরে ব্যবহৃত হার
৫ বছর ২১%
১০ বছর ৩৬%
১৫ বছর ৫৪%
২০ বছর ৭২%
২৫ বছর বা তার বেশি ৯০%

এগুলো ক্যালকুলেটরের ভেতরে ব্যবহৃত হার। সব ক্ষেত্রে সরকারি বিধিতে একই হার প্রযোজ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট গেজেট ও পেনশন বিধির সঙ্গে যাচাই করতে হবে। ক্যালকুলেটরটির নির্দেশনায় ১৬ থেকে ১৯ বছরের চাকরিকালের হার অন্য একটি উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

মাসিক নিট পেনশন কীভাবে হিসাব করা হয়?

ক্যালকুলেটরে ব্যবহৃত সূত্র অনুযায়ী, শেষ মূল বেতন ও নির্বাচিত চাকরিকালের হারের ভিত্তিতে গ্রস পেনশন নির্ধারণ করা হয়। এরপর গ্রস পেনশনের ৫০ শতাংশকে মাসিক নিট পেনশন হিসেবে দেখানো হয়।

উদাহরণ হিসেবে, কেবল সূত্র বোঝানোর জন্য শেষ মূল বেতন ২৮ হাজার টাকা এবং চাকরিকাল ২৫ বছর বা তার বেশি ধরা হলে:

  • শেষ মূল বেতন: ২৮,০০০ টাকা
  • ক্যালকুলেটরে ব্যবহৃত হার: ৯০ শতাংশ
  • সূত্র অনুযায়ী গ্রস পেনশন: ২৫,২০০ টাকা
  • গ্রস পেনশনের ৫০ শতাংশ: ১২,৬০০ টাকা

এটি ক্যালকুলেটরের সূত্র অনুযায়ী একটি উদাহরণমাত্র। প্রকৃত পেনশন নির্ধারণে প্রযোজ্য সরকারি বিধি, চাকরির রেকর্ড এবং অনুমোদিত হিসাব বিবেচ্য হবে।

এককালীন আনুতোষিক কত টাকা হতে পারে?

মাসিক পেনশনের পাশাপাশি অবসরের সময় আনুতোষিক একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রাপ্তি। ক্যালকুলেটরটিতে চাকরিকাল অনুযায়ী আনুতোষিকের জন্য পৃথক গুণক ব্যবহার করা হয়েছে।

চাকরিকাল ব্যবহৃত গুণক
৫–৯ বছর ২৬৫
১০–১৪ বছর ২৬০
১৫–১৯ বছর ২৪৫
২০ বছর বা তার বেশি ২৩০

টুলটির সূত্রে মাসিক নিট পেনশনকে সংশ্লিষ্ট গুণক দিয়ে গুণ করে আনুতোষিক হিসাব করা হয়। এরপর ছুটি নগদায়নের সম্ভাব্য অর্থের সঙ্গে আনুতোষিক যোগ করে এককালীন প্রাপ্তির হিসাব দেখানো হয়।

তবে আনুতোষিকের প্রকৃত পরিমাণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পেনশন বিধি, অনুমোদিত পেনশন এবং ব্যক্তির চাকরিসংক্রান্ত তথ্যের ওপর।

ছুটি নগদায়নের হিসাবও দেখা যাবে

অবসরের সময় নগদায়নযোগ্য ছুটি থাকলে তার সম্ভাব্য অর্থ হিসাব করা যায় এই ক্যালকুলেটরে। টুলটিতে ব্যবহৃত সূত্র হলো:

ছুটি নগদায়নের সম্ভাব্য অর্থ = শেষ মূল বেতন × নগদায়নযোগ্য ছুটির মাস।

যেমন, কেবল হিসাব বোঝানোর জন্য শেষ মূল বেতন ২৮ হাজার টাকা এবং নগদায়নযোগ্য ছুটি ১৮ মাস ধরা হলে গুণফল দাঁড়ায় ৫ লাখ ৪ হাজার টাকা। এটি ক্যালকুলেটরের সূত্রভিত্তিক উদাহরণ; প্রকৃত প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণে ছুটির যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট বিধি যাচাই করতে হবে।

চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য ভাতার হিসাব

ক্যালকুলেটরটিতে মাসিক নিট পেনশনের পাশাপাশি চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতার সম্ভাব্য হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

টুলটির বর্তমান হারের বিকল্পে ৬৫ বছরের কম বয়সে চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সে ২,৫০০ টাকা ধরা হয়েছে। নতুন হারের বিকল্পে বয়স অনুযায়ী ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতার হিসাব রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বছরে দুটি উৎসব ভাতা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতার হিসাবও দেখানো হয়। ক্যালকুলেটরে বর্তমান হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা নিট পেনশনের ২০ শতাংশ এবং নতুন হারের বিকল্পে ১৫ শতাংশ ধরে হিসাব করা হয়েছে।

তবে এসব হার ও কার্যকর হওয়ার সময়সীমা ক্যালকুলেটরের অন্তর্ভুক্ত সূত্রের অংশ। সরকারি আদেশে নিশ্চিত না হয়ে এগুলোকে সব পেনশনভোগীর জন্য চূড়ান্ত প্রাপ্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

এক ক্লিকেই প্রিন্ট করা যাবে হিসাবের বিবরণী

ক্যালকুলেটরটিতে A4 কাগজে হিসাব প্রিন্ট করার সুবিধা রয়েছে। এতে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেষ মূল বেতন, পিআরএলে ইনক্রিমেন্ট, চাকরিকাল, বয়স ও নির্বাচিত ভাতার হারের বিবরণসহ হিসাবের ফলাফল সংরক্ষণ করা যায়।

প্রিন্ট করতে ক্যালকুলেটরের ‘A4 কাগজে প্রিন্ট করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রিন্টের ব্যবস্থা কাজ না করলে কম্পিউটারে Ctrl + P ব্যবহার করা যায়। মোবাইল থেকে ব্রাউজারের Print বা Share মেনু ব্যবহার করা যেতে পারে।

সরকারি পেনশন ক্যালকুলেটর ব্যবহারে সতর্কতা

ক্যালকুলেটরের নামের সঙ্গে ‘নবম পে স্কেল ২০২৬’ যুক্ত থাকলেও এর প্রতিটি সূত্র ও ভাতার হার সরকারি অনুমোদিত বিধানের সঙ্গে মেলে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে পেনশনের হার, আনুতোষিকের গুণক, চিকিৎসা ভাতা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতার ক্ষেত্রে সরকারি আদেশের সঙ্গে তুলনা করতে হবে।

সরকারি পেনশনসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য অর্থ বিভাগের পেনশন-সংক্রান্ত বিধি ও আদেশের পাতা এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পেনশন ও ফান্ড ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখা যেতে পারে।

সরকারি পেনশন ও ফান্ড ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে পেনশন ক্যালকুলেটর এবং পেনশন-সংক্রান্ত তথ্যের সুবিধাও রয়েছে। সেখানে প্রদত্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ব্যবহার করে নিজের হিসাব যাচাই করা যেতে পারে।

শেষ কথা

সরকারি পেনশন ক্যালকুলেটর ২০২৬ অবসরের আগে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন, আনুতোষিক, ছুটি নগদায়ন এবং বিভিন্ন ভাতার হিসাব বুঝতে সহায়ক হতে পারে। শেষ মূল বেতন, চাকরিকাল, ছুটির মাস ও বয়সের তথ্য দিয়ে প্রাথমিক হিসাব তৈরি করলে অবসর-পরবর্তী আর্থিক পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

তবে ক্যালকুলেটরে প্রদর্শিত অঙ্কই চূড়ান্ত সরকারি পাওনা—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত চাকরির নথি, প্রযোজ্য পেনশন বিধি, সরকারি গেজেট এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অনুমোদনের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণ করতে হবে।

সরকারি পেনশন ক্যালকুলেটর (নবম পে স্কেল ২০২৬)

আপনার মতামত লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।