নবম জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের iBAS++-এর মাধ্যমে অনলাইনে পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেলের পে-ফিক্সেশন সফটওয়্যার চালুর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশ্য সরকারি ওয়েবসাইটে ৬ অক্টোবরকে চূড়ান্ত উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা কোনো পৃথক নোটিশ পাওয়া যায়নি। তাই তারিখটিকে আপাতত প্রত্যাশিত/প্রস্তুতিমূলক সময়সূচি হিসেবে দেখা নিরাপদ।
ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী অনলাইনে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া iBAS++-ভিত্তিক করার বিষয়টি সরকারি পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। iBAS++-এর অফিসিয়াল পে-ফিক্সেশন প্ল্যাটফর্মে অনলাইন বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং হিসাবরক্ষণ কার্যালয় কর্তৃক দাখিলকৃত তথ্য যাচাই ও প্রতিপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
৬ অক্টোবর কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নবম পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর শুধু নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা করলেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন হাতে পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় না। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান বেতন, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট, চাকরির বিভিন্ন পরিবর্তন এবং প্রযোজ্য অন্যান্য তথ্য বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণ বা Pay Fixation করতে হয়।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী অনলাইন পে-ফিক্সেশন iBAS++-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত তথ্য দিয়ে সিস্টেমে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
এ কারণে ৬ অক্টোবর থেকে সফটওয়্যার ব্যবহারের কার্যক্রম শুরু হলে এটি হবে নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ।
কীভাবে হবে পে-ফিক্সেশন?
প্রকাশিত নির্দেশনার ভিত্তিতে পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীর শ্রেণি অনুযায়ী লগইন পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকবে।
গেজেটেড কর্মকর্তা iBAS++-এর নিজস্ব User ID ও Password ব্যবহার করে প্রবেশ করবেন। অন্যদিকে নন-গেজেটেড কর্মচারী NID নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারবেন। এরপর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো OTP ব্যবহার করে পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
অর্থাৎ, পে-ফিক্সেশনের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের iBAS++-এ থাকা ব্যক্তিগত তথ্য, NID, জন্মতারিখ এবং নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর সঠিক আছে কি না—সেটি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
পে-ফিক্সেশনের পর কী হবে?
অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য দাখিল করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Drawing and Disbursing Officer (DDO) এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের যাচাই ও অনুমোদনের ধাপ থাকবে। অনুমোদনের পর সিস্টেম থেকে পে-ফিক্সেশন সংক্রান্ত Verification Number তৈরি হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
এতে আগের মতো সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া কাগজপত্রনির্ভর না হয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অনলাইনে তৈরি হওয়া নতুন বেতন-সংক্রান্ত তথ্য সার্ভিস বইয়েও যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।
পুরোনো Pay Fixation ওয়েবসাইটের কী হবে?
নতুন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—পে-ফিক্সেশনের জন্য আগের ওয়েব ঠিকানা ব্যবহার করলেও কর্মচারীকে iBAS++-এর সংশ্লিষ্ট Pay Fixation অপশনে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মূল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে iBAS++-ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
নতুন বেতন কত হবে—সেটি কি সফটওয়্যারই দেখাবে?
পে-ফিক্সেশন সফটওয়্যারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে প্রত্যেক কর্মচারীর নতুন মূলবেতন নির্ধারণ করা। সংশ্লিষ্ট তথ্য ইনপুট দেওয়ার পর সিস্টেমে নতুন নির্ধারিত মূলবেতন প্রদর্শিত হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে প্রকাশিত নির্দেশনা ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো হিসাব বা অনলাইন ক্যালকুলেটরকে চূড়ান্ত বেতন হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ হবে সরকারি প্রজ্ঞাপন/আদেশে নির্ধারিত নিয়ম এবং iBAS++-এ অনুমোদিত তথ্যের ভিত্তিতে।
বকেয়া বেতনের সঙ্গে পে-ফিক্সেশনের সম্পর্ক
নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং নতুন বেতন হাতে পাওয়ার তারিখ এক বিষয় নয়। নতুন কাঠামো কার্যকর হলেও বাস্তব বেতন প্রদানের জন্য প্রথমে পে-ফিক্সেশন, যাচাই, অনুমোদন এবং payroll-এ তথ্য সংযোজনসহ কয়েকটি প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত বেতন সেপ্টেম্বরের বেতনের সঙ্গে পাওয়া নাও যেতে পারে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে নতুন বেতন ও সংশ্লিষ্ট সমন্বয় হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কর্মকর্তাদের বক্তব্য এসেছে।
এ কারণে পে-ফিক্সেশন সফটওয়্যার চালু হওয়া শুধু বেতন নির্ধারণের জন্য নয়, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী পরবর্তী payroll ও বকেয়া সমন্বয়ের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মচারীদের এখন কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
৬ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম এগোলে সরকারি চাকরিজীবীদের কয়েকটি বিষয় আগে থেকেই যাচাই করে রাখা ভালো—
- iBAS++-এ NID নম্বর সঠিক আছে কি না
- জন্মতারিখ সঠিকভাবে সংরক্ষিত আছে কি না
- নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর সচল আছে কি না
- বর্তমান গ্রেড ও মূলবেতন সঠিক আছে কি না
- সর্বশেষ ইনক্রিমেন্টের তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কি না
- পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, টাইমস্কেল বা অন্য কোনো বেতন পুনর্নির্ধারণ হয়ে থাকলে সেটি সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত আছে কি না
- প্রয়োজন হলে সার্ভিস বইয়ের তথ্যের সঙ্গে iBAS++-এর তথ্য মিলিয়ে দেখা
- পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর Verification Number/Statement সংরক্ষণ করা
বিশেষ করে তথ্যের কোনো ভুল থাকলে পে-ফিক্সেশন সাবমিট করার আগে সংশ্লিষ্ট অফিসের DDO/হিসাব শাখার সঙ্গে বিষয়টি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
৬ অক্টোবর থেকে শুরু হলে পরবর্তী ধাপ কী হতে পারে?
পে-ফিক্সেশন সফটওয়্যার চালু হলে কার্যক্রম একদিনে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য শেষ হবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, জেলা ও মাঠপর্যায়ের দপ্তরের তথ্য যাচাই এবং অনুমোদনের কারণে ধাপে ধাপে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
প্রথম ধাপে সফটওয়্যার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রস্তুতি, এরপর কর্মচারীর তথ্য প্রদান, DDO পর্যায়ের যাচাই, হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অনুমোদন এবং পরবর্তী পর্যায়ে payroll-এ নতুন বেতন কার্যকর করার মতো ধাপ থাকতে পারে। iBAS++ ইতোমধ্যে সরকারি pay bill, GPF, ঋণ ও আয়কর বিবরণীসহ বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনা করে।
৬ অক্টোবরের তথ্য নিয়ে সতর্কতা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে “৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে iBAS++ পে-ফিক্সেশন সফটওয়্যার চালু হবে”—এমন তথ্য প্রচার হচ্ছে। কিন্তু এই নির্দিষ্ট তারিখকে চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা হিসেবে উপস্থাপনের আগে অর্থ বিভাগ বা iBAS++ কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল নোটিশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কারণ পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থা ইতোমধ্যে iBAS++-এর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিদ্যমান এবং নতুন পে-স্কেলের জন্য সেটি সংশোধন/আপডেট করে চালুর বিষয়টি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। অফিসিয়াল iBAS++ পোর্টালেও অনলাইন Pay Fixation সেবা এবং সংশ্লিষ্ট লগইন ব্যবস্থা দৃশ্যমান রয়েছে।
শেষ কথা
নবম জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে iBAS++ পে-ফিক্সেশন হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়নধাপগুলোর একটি। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর প্রত্যেক কর্মচারীর ব্যক্তিগত বেতন-তথ্য নতুন স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত নতুন বেতন পুরোপুরি payroll ব্যবস্থায় কার্যকর করা সম্ভব নয়।
তাই ৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে পে-ফিক্সেশন সফটওয়্যার চালুর প্রত্যাশিত সময়সূচি বাস্তবায়িত হলে অক্টোবরের শুরু থেকেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পে-ফিক্সেশন নিয়ে কার্যক্রম বাড়তে পারে। তবে নির্দিষ্ট তারিখটি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নোটিশ প্রকাশের পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সঠিক তথ্য দিয়ে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা, অনুমোদিত Statement/Verification Number সংরক্ষণ করা এবং নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার পর মূলবেতন ও বেতন-ভাতার হিসাব মিলিয়ে দেখা।
অফিসিয়াল iBAS++ পোর্টাল: iBAS++ Online Pay Fixation




