মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশিত পোস্ট ১৬১টি ক্যাটাগরি ২০টি
সর্বশেষ আপডেট ১১:২৩ অপরাহ্ণ লাইভ

পে স্কেল • পেনশন • ছুটি • সরকারি প্রজ্ঞাপন ও গেজেটের সর্বশেষ আপডেট

সরকারি আপডেট
সরকারি ওয়েবসাইটের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন, গেজেট ও পরিপত্র এখানে দেখা যাবে
প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র

৯ম পে-স্কেলে ভাতা নির্ধারণে নতুন নির্দেশনা: ৩০ জুনের মূল বেতনই আপাতত ভিত্তি, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতায় কী হবে?

৯ম পে-স্কেলে ভাতা নির্ধারণে নতুন নির্দেশনা: ৩০ জুনের মূল বেতনই আপাতত ভিত্তি, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতায় কী হবে?

নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা নির্ধারণের ভিত্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক প্রচলিত যেসব ভাতা কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করা হবে।

১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের বিশেষ গেজেটে প্রকাশিত এই প্রজ্ঞাপনের পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা কি এই নির্দেশনার আওতায় পড়বে, নাকি এ ভাতার ক্ষেত্রে ৯ম পে-স্কেলের গেজেটের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করতে হবে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

প্রজ্ঞাপনটির ভাষা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, এখানে সব ধরনের ভাতাকে একই নিয়মে নির্ধারণের কথা বলা হয়নি। বরং নতুন বেতন আদেশের আওতাবহির্ভূত এবং মূল বেতনের শতাংশের ভিত্তিতে প্রচলিত ভাতাগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট ভিত্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে কোন ভাতা এই নির্দেশনার আওতায় পড়বে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বেতন আদেশ ও ভাতার বিধান বিবেচনা করা জরুরি। সূত্র: বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়

কী বলা হয়েছে অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে?

অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি-৩ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের স্মারক নম্বর:

০৭.০০.০০০০.১৭৩.৫৫.০১০.১৩ (অংশ-১)-১১৮।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক যেসব প্রচলিত ভাতা পেয়ে থাকেন, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত ও প্রদেয় হবে।

এই নির্দেশনার তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, নির্ধারিত তারিখ হবে ৩০ জুন ২০২৬। সংশ্লিষ্ট ভাতা হিসাবের ক্ষেত্রে ওই তারিখে কর্মচারী যে মূল বেতন আহরণ করেছেন, সেটিই ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

দ্বিতীয়ত, নির্দেশনাটি নির্দিষ্ট ধরনের ভাতার জন্য। চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত এবং মূল বেতনের শতাংশের ভিত্তিতে প্রচলিত ভাতা হতে হবে।

তৃতীয়ত, এটি পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে সরকার নতুন নির্দেশনা জারি করলে সংশ্লিষ্ট ভাতা নির্ধারণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৩০ জুনের মূল বেতনকে ভিত্তি করার নির্দেশনা মানেই সব কর্মচারীর সব ভাতার পরিমাণ একই থাকবে—এমন নয়। কোন ভাতা কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং সেটি নতুন বেতন আদেশের আওতাভুক্ত কি না, তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে।

৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে ভাতা নির্ধারণ বলতে কী বোঝায়?

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর কর্মচারীদের মূল বেতন এবং বিভিন্ন ভাতা নির্ধারণের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় কোন বেতনের ভিত্তিতে প্রচলিত কিছু ভাতা দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করতেই অর্থ বিভাগের এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ।

ধরা যাক, একজন সরকারি কর্মচারী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ২৫ হাজার টাকা মূল বেতন আহরণ করতেন। পরবর্তী সময়ে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাঁর মূল বেতন বেড়ে ৩৫ হাজার টাকা হলো।

এখন ওই কর্মচারীর একটি ভাতা যদি নতুন বেতন আদেশের আওতাবহির্ভূত হয় এবং মূল বেতনের ২০ শতাংশ হিসেবে নির্ধারিত হয়, তাহলে প্রজ্ঞাপনের আওতাভুক্ত হলে হিসাবটি হবে:

  • ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন: ২৫,০০০ টাকা
  • উদাহরণ হিসেবে ভাতার হার: ২০ শতাংশ
  • ভাতার পরিমাণ: ২৫,০০০ × ২০% = ৫,০০০ টাকা

এই উদাহরণে ভাতার পরিমাণ হবে ৫ হাজার টাকা। তবে ২০ শতাংশের হারটি কেবল হিসাব বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে; এটি কোনো নির্দিষ্ট সরকারি ভাতার নিশ্চিত হার নয়।

একইভাবে, নতুন মূল বেতন ৩৫ হাজার টাকা ধরে ওই ভাতা হিসাব করা যাবে কি না, তা নির্ভর করবে ভাতাটি প্রজ্ঞাপনের আওতাভুক্ত কি না এবং সংশ্লিষ্ট বিধানে কী বলা হয়েছে তার ওপর।

শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা নিয়ে প্রশ্ন কেন?

নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর সরকারি কর্মচারীদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা। কারণ, এ ভাতার ক্ষেত্রে কোন বিধান প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারণ করতে শুধু প্রজ্ঞাপনের সাধারণ ভাষার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়।

এ বিষয়ে তিনটি দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন।

১. প্রজ্ঞাপনে শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতার নাম আলাদাভাবে উল্লেখ নেই

অর্থ বিভাগের নতুন নির্দেশনায় শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতার নাম ধরে আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। সেখানে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক প্রচলিত ভাতার কথা বলা হয়েছে।

ফলে শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা এই সাধারণ বর্ণনার মধ্যে পড়বে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিধান পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

২. ৯ম পে-স্কেলের গেজেটের বিধানও বিবেচ্য

শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতার বিষয়ে ৯ম পে-স্কেলের গেজেটে বিধান রয়েছে বলে এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যদি সংশ্লিষ্ট গেজেটে এই ভাতার নির্ধারণপদ্ধতি বা প্রদানের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান থাকে, তাহলে নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সেটির সম্পর্ক বুঝতে হবে।

কোনো ভাতা নতুন বেতন আদেশের আওতাভুক্ত হলে এবং কোনো ভাতা আওতাবহির্ভূত হলে উভয়ের ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

৩. চূড়ান্ত ব্যাখ্যার জন্য অর্থ বিভাগের নির্দেশনা প্রয়োজন হতে পারে

প্রজ্ঞাপনে ভাতাটির নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকায় শুধু এই নথির ভিত্তিতে শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে হিসাব করতে হবে—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না।

একইভাবে, ভাতাটি এই প্রজ্ঞাপনের বাইরে—এ কথাও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গেজেটের ধারা এবং অর্থ বিভাগের ব্যাখ্যা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই যুক্তিসংগত।

সব ভাতা কি পুরোনো মূল বেতনের ভিত্তিতে দেওয়া হবে?

এ প্রশ্নের উত্তর হলো, প্রজ্ঞাপনটিকে সব ধরনের ভাতার জন্য একক নির্দেশনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

নির্দেশনায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে, চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক প্রচলিত ভাতার কথা। ফলে কোনো ভাতা নতুন বেতন আদেশের আওতাভুক্ত হলে তার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদেশের বিধান অনুসরণ করতে হবে।

অন্যদিকে, নতুন বেতন আদেশের আওতাবহির্ভূত এবং মূল বেতনের শতাংশের ভিত্তিতে নির্ধারিত ভাতা হলে প্রজ্ঞাপনের শর্তগুলো প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে।

এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদেও বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো চালু হলেও পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রচলিত ভাতাগুলো আগের নির্ধারিত ভিত্তিতে দেওয়ার ব্যবস্থা বহাল থাকবে। তবে নির্দিষ্ট ভাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান যাচাই করা জরুরি। সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস)

সরকারি কর্মচারীদের করণীয় কী?

ভাতা নির্ধারণে ভুল বা বিভ্রান্তি এড়াতে সরকারি কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এক. নিজের ভাতাটি চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাভুক্ত কি না, তা যাচাই করতে হবে।

দুই. ভাতাটি মূল বেতনের শতাংশের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, নাকি নির্দিষ্ট অঙ্ক হিসেবে দেওয়া হয়, তা জানতে হবে।

তিন. শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতার ক্ষেত্রে ৯ম পে-স্কেলের গেজেটের সংশ্লিষ্ট ধারা পর্যালোচনা করতে হবে।

চার. কোনো ভাতা নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলে দপ্তরের হিসাব শাখা, ডিডিও অথবা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া যেতে পারে।

পাঁচ. অর্থ বিভাগ থেকে পরবর্তী কোনো স্পষ্টীকরণ জারি হলে সেটি অনুসরণ করতে হবে।

শেষ কথা

৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের মধ্যে অর্থ বিভাগের ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপন সরকারি কর্মচারীদের কিছু প্রচলিত ভাতা নির্ধারণের ভিত্তি স্পষ্ট করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন বেতন আদেশের আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক প্রচলিত ভাতার ক্ষেত্রে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতনকে ভিত্তি হিসেবে নিতে হবে।

তবে শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা এই নির্দেশনার আওতায় পড়বে কি না, সেটি এখনো পৃথকভাবে যাচাই করার বিষয়। প্রজ্ঞাপনে ভাতাটির নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকায় এবং পে-স্কেলের গেজেটের বিধান বিবেচনায় নিয়ে অর্থ বিভাগের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন হবে না।

সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্পষ্ট করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। এতে ভাতা নির্ধারণে দপ্তরভেদে ভিন্ন ব্যাখ্যা, হিসাবের অসংগতি এবং ভবিষ্যৎ জটিলতা কমানো সম্ভব হবে।

সূত্র: অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়; বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ গেজেট।

আপনার মতামত লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।