দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় বেতনস্কেল–২০২৬ বাস্তবায়নের কার্যক্রম এখন বাস্তব পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের পর এবার শুরু হয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ—পে ফিক্সেশন বা নতুন বেতন নির্ধারণ। এই প্রক্রিয়ায় একজন কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডসহ পূর্বের বেতন নির্ধারণের তথ্য যাচাই করে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের পে ফিক্সেশন iBAS++-এর পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে করা হবে এবং ২০ অক্টোবরের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও বকেয়ার হিসাব চূড়ান্ত হওয়ার কথা।
নতুন পে স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত?
জাতীয় বেতনস্কেল–২০২৬-এ বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
অর্থাৎ আগের বেতন কাঠামোর তুলনায় বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সরকারের অনুমোদনের সময় বলা হয়েছিল, নতুন কাঠামো নির্ধারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
গ্রেডভিত্তিক নতুন পে স্কেলের সারসংক্ষেপ
| গ্রেড | নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক মূল বেতন | সর্বশেষ মূল বেতন |
|---|---|---|
| ১ম | ১,৫৬,০০০ টাকা | ১,৫৬,০০০ টাকা |
| ২য় | ১,৩২,০০০ টাকা | ১,৫৩,০০০ টাকা |
| ৩য় | ১,১৩,০০০ টাকা | ১,৪৮,৮০০ টাকা |
| ৪র্থ | ১,০০,০০০ টাকা | ১,৪২,৪০০ টাকা |
| ৫ম | ৮৬,০০০ টাকা | ১,৩৯,৭০০ টাকা |
| ৬ষ্ঠ | ৭১,০০০ টাকা | ১,৩৪,০০০ টাকা |
| ৭ম | ৫৮,০০০ টাকা | ১,২৬,৮০০ টাকা |
| ৮ম | ৪৬,০০০ টাকা | ১,১০,৮০০ টাকা |
| ৯ম | ৪৪,০০০ টাকা | ১,০৫,৯০০ টাকা |
| ১০ম | ৩২,০০০ টাকা | ৭৭,৩০০ টাকা |
| ১১তম | ২৫,০০০ টাকা | ৬০,৫০০ টাকা |
| ১২তম | ২৪,৩০০ টাকা | ৫৮,৭০০ টাকা |
| ১৩তম | ২৪,০০০ টাকা | ৫৮,০০০ টাকা |
| ১৪তম | ২৩,৫০০ টাকা | ৫৬,৮০০ টাকা |
| ১৫তম | ২২,৮০০ টাকা | ৫৫,২০০ টাকা |
| ১৬তম | ২১,৯০০ টাকা | ৫২,৯০০ টাকা |
| ১৭তম | ২১,৪০০ টাকা | ৫১,৯০০ টাকা |
| ১৮তম | ২১,০০০ টাকা | ৫০,৯০০ টাকা |
| ১৯তম | ২০,৫০০ টাকা | ৪৯,৬০০ টাকা |
| ২০তম | ২০,০০০ টাকা | ৪৮,৪০০ টাকা |
নতুন পে স্কেলের গেজেট ও অর্থ বিভাগের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
পে ফিক্সেশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে ৩০ জুনের বেতন
নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কর্মচারী যে মূল বেতন পেতেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপর নতুন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হবে।
এ কারণে একই গ্রেডে কর্মরত দুই কর্মচারীর নতুন মূল বেতন একই নাও হতে পারে। কারণ তাদের পূর্বের মূল বেতন, ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা, পদোন্নতি কিংবা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময় এক না হলে পে ফিক্সেশনের ফলও আলাদা হতে পারে।
১ জুলাই ২০২৬-এর ইনক্রিমেন্ট কী হবে?
জাতীয় বেতনস্কেল–২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তারিখ ১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট যোগ্য চাকরির মেয়াদ পূরণ হলে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। গেজেটভিত্তিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যোগ্য চাকরির মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।
তাই পে ফিক্সেশনের সময় শুধু নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন দেখা যাবে না। কর্মচারীর পূর্ববর্তী বেতন এবং প্রযোজ্য ইনক্রিমেন্টের তথ্যও সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে।
নতুন বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না
নতুন পে স্কেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—নতুন মূল বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন ও আগের মূল বেতনের পার্থক্যের নির্দিষ্ট অংশ পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬
এই সময়ের জন্য নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে।
১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭
পরবর্তী পর্যায়ে ওই পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে।
১ জুলাই ২০২৭ থেকে
এরপর পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে।
অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই নতুন পে স্কেলের কার্যকারিতা ধরা হলেও কর্মচারীরা একদিনে পুরো নতুন বেসিক পাবেন না; নির্ধারিত ধাপ অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়িত হবে।
অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে কেন বকেয়া আসবে?
নতুন পে স্কেলের কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধরা হলেও গেজেট প্রকাশ হয়েছে সেপ্টেম্বরে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের জন্য নতুন কাঠামোর প্রাপ্য অংশের হিসাব তৈরি হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৬-এর বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সবার বকেয়া সমান হবে না।
একজন কর্মচারীর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে—
- তার গ্রেড;
- ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন;
- নতুন পে স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন;
- সংশ্লিষ্ট সময়ের কার্যকর শতাংশ;
- ইনক্রিমেন্ট;
- পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড;
- এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বেতন নির্ধারণের তথ্যের ওপর।
পে ফিক্সেশনের জন্য কী কী তথ্য লাগবে?
iBAS++ পে ফিক্সেশন কার্যক্রমে কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য যাচাই করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য
২. জন্মতারিখ
৩. বর্তমান পদ
৪. বর্তমান গ্রেড
৫. চাকরিতে যোগদানের তারিখ
৬. বর্তমান মূল বেতন
৭. পূর্বের পে ফিক্সেশনের তথ্য
৮. পদোন্নতির তথ্য
৯. বদলির তথ্য
১০. টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেডের তথ্য
১১. উচ্চতর গ্রেডের তথ্য
১২. সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও প্রমাণপত্র।
বিশেষ করে যাদের চাকরিজীবনে একাধিকবার পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড হয়েছে, তাদের পুরোনো অফিস আদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথি প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
পে ফিক্সেশনে ভুল হলে কী হতে পারে?
নতুন বেতন নির্ধারণ সম্পূর্ণভাবে তথ্যনির্ভর হওয়ায় পুরোনো রেকর্ডে ভুল থাকলে নতুন বেতনেও তার প্রভাব পড়তে পারে। যেমন—পূর্ববর্তী পে ফিক্সেশনের তথ্য, পদোন্নতির তারিখ, ইনক্রিমেন্টের তারিখ বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য ভুল থাকলে নতুন বেতন নির্ধারণেও অসঙ্গতি দেখা দিতে পারে।
এ কারণে কর্মচারীদের পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করার আগে নিজেদের পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের রেকর্ড ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব গ্রেডে একই হারে সুবিধা নয়
সরকার নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের সময় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করেছে। এজন্য ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন কাঠামোর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১৬তম, ১৭তম, ১৮তম, ১৯তম ও ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
ভাতা কবে থেকে কার্যকর হবে?
নতুন পে স্কেলের মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভাতার ক্ষেত্রেও আলাদা সময়সূচি রয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ ২০২৬ ও ২০২৭ সালে মূল বেতন ধাপে ধাপে বাড়লেও নতুন কাঠামোর সব ভাতা একই সময়ে কার্যকর হবে না।
মোবাইল ভাতাতেও পরিবর্তন
নতুন বেতনস্কেলে মোবাইল যোগাযোগ ব্যয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। আগে নির্দিষ্ট উচ্চতর গ্রেডের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতার আওতায় থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব গ্রেডের কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এটি নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম উল্লেখযোগ্য সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব কর্মচারী নিয়মিত সরকারি ডিজিটাল সেবা ও অফিসিয়াল যোগাযোগের কাজে মোবাইল ব্যবহার করেন।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ইনক্রিমেন্টের নিয়ম
নতুন পে স্কেলে শুধু বর্তমান কর্মচারীদের বেতন নয়, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণের বিষয়েও বিধান রাখা হয়েছে।
১ জুলাই ২০২৬ বা তার পরে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারী সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট পদের নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন থেকে বেতন পাবেন। তবে নির্দিষ্ট উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা বা বিশেষ বিধানের আওতায় কিছু ক্ষেত্রে অগ্রিম ইনক্রিমেন্টের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
বিশেষ করে ৯ম গ্রেড বা তার ওপরে থাকা কিছু পদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্টের বিধান রয়েছে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়বে
নতুন পে স্কেলের প্রভাব শুধু কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধারও পরিবর্তন ঘটবে।
পে ফিক্সেশন শেষ হলে কী করবেন?
পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর কর্মচারীদের উচিত নতুন নির্ধারিত বেতন ও পুরোনো বেতনের তথ্য মিলিয়ে দেখা। বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন—
নতুন গ্রেড → নতুন মূল বেতন → ইনক্রিমেন্টের ধাপ → ১ জুলাই ২০২৬-এর কার্যকর বেতন → অক্টোবরের বকেয়া → পরবর্তী মাসের বেতন।
যদি কোনো তথ্য ভুল থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
২০ অক্টোবরের মধ্যে বড় ধাপ শেষ করার লক্ষ্য
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর পে ফিক্সেশন কার্যক্রম ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সরকারি হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের অধীন iBAS++ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় আগের তুলনায় বেতন নির্ধারণের কাজ আরও কেন্দ্রীভূত ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে।
এক নজরে নতুন পে স্কেলের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
| বিষয় | সময় |
|---|---|
| নতুন পে স্কেলের কার্যকারিতা | ১ জুলাই ২০২৬ |
| প্রথম ধাপের বেতন | ১ জুলাই ২০২৬ |
| দ্বিতীয় ধাপ | ১ জানুয়ারি ২০২৭ |
| পূর্ণ নতুন মূল বেতন | ১ জুলাই ২০২৭ |
| নতুন ভাতা কার্যকর | ১ জানুয়ারি ২০২৮ |
| পে ফিক্সেশন কার্যক্রম | অক্টোবর ২০২৬ |
| পে ফিক্সেশন শেষ করার লক্ষ্য | ২০ অক্টোবর ২০২৬ |
| বকেয়া | অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে দেওয়ার পরিকল্পনা |
শেষ কথা
জাতীয় বেতনস্কেল–২০২৬ বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গেজেট প্রকাশের পর নতুন বেতন কত হবে—এ প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে পে ফিক্সেশনের সঠিক হিসাবের ওপর।
বিশেষ করে ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন, ১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্ট, পূর্ববর্তী পে ফিক্সেশন, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড ও অন্যান্য চাকরিসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই না করলে চূড়ান্ত বেতনে অসঙ্গতি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে কার কত টাকা বকেয়া হবে, সেটি একক কোনো অঙ্ক নয়; বরং গ্রেড, পুরোনো মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত বেতন এবং কার্যকর শতাংশের ভিত্তিতে আলাদাভাবে হিসাব করা হবে।

সুতরাং নতুন পে স্কেলের ইনক্রিমেন্ট শিট দেখার পাশাপাশি নিজের পে ফিক্সেশন রেকর্ড, ৩০ জুনের বেসিক এবং সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশগুলো যাচাই করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সরকারি বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত তথ্যের জন্য অর্থ বিভাগের প্রকাশিত জাতীয় বেতনস্কেল–২০২৬ এবং ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-কেই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে অনুসরণ করা উচিত।


