শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশিত পোস্ট ১৭১টি ক্যাটাগরি ২০টি
সর্বশেষ আপডেট ৯:৫৭ অপরাহ্ণ লাইভ

পে স্কেল • পেনশন • ছুটি • সরকারি প্রজ্ঞাপন ও গেজেটের সর্বশেষ আপডেট

সরকারি আপডেট
সরকারি ওয়েবসাইটের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন, গেজেট ও পরিপত্র এখানে দেখা যাবে
অন্যান্য

দেশে তৈরি হচ্ছে নিজস্ব বাংলা এআই, একীভূত হবে এনআইডি-পাসপোর্ট-জন্মনিবন্ধনের তথ্য

দেশে তৈরি হচ্ছে নিজস্ব বাংলা এআই, একীভূত হবে এনআইডি-পাসপোর্ট-জন্মনিবন্ধনের তথ্য

নাগরিক সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বড় ধরনের ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও করসংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডার সমন্বিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশে নিজস্ব বাংলা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি সেবা গ্রহণ, নাগরিক পরিচয় যাচাই এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং সরকারি সেবায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এসব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। উদ্যোগগুলোর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ ব্যবস্থা, নিজস্ব বাংলা এআই মডেল, শেয়ারড জিপিইউ অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং সমন্বিত ডিজিটাল টোল ব্যবস্থা।

এক ছাতার নিচে আসবে নাগরিকদের বিভিন্ন তথ্য

বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের পৃথক তথ্যভান্ডারে সংরক্ষিত রয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে, জন্মনিবন্ধনের তথ্য স্থানীয় সরকার বিভাগের ব্যবস্থাপনায় এবং পাসপোর্টের তথ্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কাছে রয়েছে। একইভাবে আয়কর ও অন্যান্য প্রশাসনিক তথ্যও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পৃথক ব্যবস্থায় সংরক্ষিত হয়।

ফলে একজন নাগরিকের পরিচয় যাচাই করতে একাধিক দপ্তরের তথ্যের প্রয়োজন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে একই তথ্য বারবার জমা দিতে হয়। তথ্যের অসামঞ্জস্য থাকলে সরকারি সেবা গ্রহণেও জটিলতা তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ ধারণার আওতায় নাগরিকদের বিভিন্ন পরিচয় ও তথ্যভান্ডারের মধ্যে সমন্বয় তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

আইসিটি সচিব ড. মো. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা জানিয়েছেন, এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও ট্যাক্স ফাইলসহ নাগরিকদের বিভিন্ন তথ্যভান্ডার সমন্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে সরকারি সেবার ক্ষেত্রে নাগরিকের পরিচয় যাচাই সহজ হতে পারে। একই ব্যক্তির নামে একাধিক পরিচয় ব্যবহার, ভুয়া পরিচয়ে সুবিধা গ্রহণ এবং তথ্যসংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধেও সহায়ক হতে পারে।

তবে এ উদ্যোগের বাস্তবায়নে তথ্যের মালিকানা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্ব এবং নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের নিয়ম স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

দেশে তৈরি হবে নিজস্ব বাংলা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সময়ে বাংলাদেশও নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে। বিদেশি এআই প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাংলা ভাষাভিত্তিক নিজস্ব এআই মডেল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে বাংলা ভাষায় এআই ব্যবহারের সুযোগ বাড়লেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদেশি প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করতে হয়। নিজস্ব বাংলা এআই তৈরি করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

এ জন্য গড়ে তোলা হবে শেয়ারড জিপিইউ অবকাঠামো। জিপিইউ বা গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট এআই মডেল প্রশিক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং জটিল গণনামূলক কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ারড জিপিইউ অবকাঠামো তৈরি হলে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটিং সক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারেন। এতে আলাদাভাবে ব্যয়বহুল অবকাঠামো তৈরি করার প্রয়োজন কমতে পারে।

নিজস্ব বাংলা এআই তৈরি হলে সরকারি তথ্য অনুসন্ধান, বাংলা ভাষায় প্রশ্নের উত্তর, সরকারি নথি বিশ্লেষণ, অনুবাদ, নাগরিক সেবা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে এর ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

সাইবার নিরাপত্তায় নিয়োগ পাচ্ছেন ১২০ জন বিশেষজ্ঞ

নাগরিকদের তথ্য একীভূত করার পরিকল্পনার সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ সরকারি তথ্যভান্ডার যত বেশি সমন্বিত হবে, সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনও তত বাড়বে।

আইসিটি সচিব জানিয়েছেন, দেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিতে ১২০ জন জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশ হবেন কারিগরি বিশেষজ্ঞ।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার মাধ্যমে সাইবার হামলা শনাক্ত, তথ্য চুরি প্রতিরোধ, নিরাপত্তা দুর্বলতা নিরূপণ এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর সুরক্ষা জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষ করে নাগরিকদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, সরকারি নথি এবং গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা সুরক্ষিত রাখতে দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা জনবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব সেতু ও টোল প্লাজায় চালু হবে সমন্বিত ডিজিটাল টোল ব্যবস্থা

ডিজিটাল রূপান্তরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হচ্ছে দেশের সব সেতু ও টোল প্লাজার জন্য সমন্বিত ডিজিটাল টোল ব্যবস্থা চালু করা।

বর্তমানে বিভিন্ন সেতু ও টোল প্লাজায় টোল আদায়ের ক্ষেত্রে পৃথক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। ফলে একাধিক স্থানে যাতায়াতের সময় চালকদের ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির মুখোমুখি হতে হয়।

নতুন সমন্বিত ব্যবস্থা চালু হলে টোল আদায় প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং যানবাহন চলাচল আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

আইসিটি সচিব জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এটি বাস্তবায়িত হলে ডিজিটাল পেমেন্ট, টোল আদায়ের স্বচ্ছতা এবং যানবাহন চলাচলের সময় কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সব টোল প্লাজার প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্য, পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং যানবাহন শনাক্তকরণ পদ্ধতির মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

প্রশিক্ষণে আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ

প্রযুক্তি খাতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতেও নতুন অবস্থানের কথা জানিয়েছে আইসিটি বিভাগ।

আইসিটি সচিব জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন ছাড়া আর কোনো প্রশিক্ষণ দেবে না আইসিটি বিভাগ। নামমাত্র প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয়ের সুযোগ বন্ধ করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

এর ফলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মান, দক্ষতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোতে গুরুত্ব বাড়তে পারে।

বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রশিক্ষণের মান যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা অর্জন এবং কর্মক্ষেত্রে সেই দক্ষতার প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

২ নভেম্বরের মতবিনিময় সভায় উঠে আসে এসব পরিকল্পনা

গত ২ নভেম্বর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে প্রযুক্তি সাংবাদিক ও একাডেমিক পেশাজীবীদের সংগঠন সেন্টার ফর টেকনোলজি জার্নালিজমের (সিটিজে) সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান আইসিটি সচিব ড. মো. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা।

সভায় প্রযুক্তি খাতে সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সভায় উঠে আসা বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আইসিটি বিভাগ শুধু নতুন প্রযুক্তি চালু নয়, বরং প্রযুক্তি খাতের ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে চাইছে।

নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

নাগরিকদের সব তথ্য সমন্বিত করার পরিকল্পনা যতটা সম্ভাবনাময়, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কারণ এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও করসংক্রান্ত তথ্য একজন নাগরিকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য।

এসব তথ্যের অননুমোদিত ব্যবহার, চুরি কিংবা ফাঁস হলে নাগরিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তাই ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রথমত, আধুনিক এনক্রিপশন প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দায়িত্ব অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে। তৃতীয়ত, কে কখন কোন নাগরিকের তথ্য ব্যবহার করছেন, তার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রেকর্ড রাখতে হবে।

এ ছাড়া নাগরিকদের নিজেদের তথ্য ব্যবহারের ইতিহাস জানার সুযোগ এবং তথ্য ফাঁস হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর পদ্ধতি থাকা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের বিবেচনায়, সব তথ্য একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারে জমা না করেও নিরাপদ ও সমন্বিত পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। বিভিন্ন দপ্তরের তথ্যভান্ডার নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণে রেখে নিরাপদ প্রযুক্তিগত সংযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে নিজস্ব বাংলা এআই, সমন্বিত নাগরিক পরিচয় ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল টোল ব্যবস্থার পরিকল্পনা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের তথ্যের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা, পুরোনো তথ্যভান্ডার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা।

বিশেষ করে বাংলা এআই তৈরির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বাংলা ডেটাসেট, ভাষাগত বৈচিত্র্য, তথ্যের যথার্থতা এবং নিয়মিত মডেল উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অন্যদিকে সমন্বিত নাগরিক পরিচয় ব্যবস্থায় কোনো ভুল তথ্য যেন একজন নাগরিকের সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার বাধাগ্রস্ত না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

শেষ কথা

বাংলাদেশে নিজস্ব বাংলা এআই তৈরি এবং ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর উদ্যোগ সফল হলে সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। নাগরিকদের বারবার একই তথ্য জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমবে, পরিচয় যাচাই সহজ হবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর সরকারি সেবার পরিধি বাড়তে পারে।

তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ ডিজিটাল বাংলাদেশ কিংবা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রকৃত সাফল্য শুধু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে নয়, বরং সেই প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপদ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত।

এখন দেখার বিষয়, আইসিটি বিভাগের এসব পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল কতটা সহজে পায়।

আপনার মতামত লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।