বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণ, অর্জিত ছুটি এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সরকারি ছুটির সঙ্গে কয়েক দিনের অর্জিত ছুটি যুক্ত করে বিদেশে গেলে মাঝখানে থাকা সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটিগুলো অর্জিত ছুটির হিসাব থেকে বাদ যাবে কি না, তা নিয়ে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত কোনো নারী সরকারি কর্মচারী গর্ভবতী হলে কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে মাতৃত্বকালীন ছুটি নিতে চাইলে কীভাবে আবেদন করবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি একজন নারী সরকারি চাকরিজীবীর অভিজ্ঞতা ও এ বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো ঘিরে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ আইভিএফ (IVF) গর্ভাবস্থায় আলহামদুলিল্লাহ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। বিদেশে অবস্থানকালে কীভাবে মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছেন তিনি। আলোচনায় হাইকমিশনের মাধ্যমে নিজ মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানোর বিষয়টিও উঠে এসেছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ছুটি গণনা, বিদেশে অবস্থানের অনুমতি এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সরকারি ছুটির সঙ্গে অর্জিত ছুটি যুক্ত করলে কত দিন কর্তন হবে?
সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রচলিত একটি প্রশ্ন হলো, দীর্ঘ সরকারি ছুটির সঙ্গে অর্জিত ছুটি যুক্ত করে বিদেশে গেলে মাঝখানে থাকা সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটিগুলো কি অর্জিত ছুটি থেকে বাদ দেওয়া হয়?
বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা যাক।
ধরা যাক, অক্টোবর মাসের ২০ তারিখ থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি। কোনো সরকারি কর্মকর্তা এই ছুটির সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ২০ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে অবস্থানের পরিকল্পনা করলেন।
এক্ষেত্রে মোট অনুপস্থিতির সময় ১৬ দিন (২০ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত উভয় তারিখসহ)। তবে প্রশ্নে মোট ১৫ দিনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সঠিক হিসাবের ক্ষেত্রে ছুটির শুরু ও শেষের তারিখ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করে দিন গণনা করতে হবে।
সাধারণ নিয়মে অনুমোদিত ছুটির মেয়াদের মধ্যবর্তী সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি ছুটির সময়ের অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ, শুধু পূজা বা সাপ্তাহিক ছুটি পড়েছে বলে ওই দিনগুলো অর্জিত ছুটির হিসাব থেকে বাদ যাবে না।
উদাহরণ অনুযায়ী, যদি মোট অনুমোদিত ছুটির মেয়াদ ১৫ দিন হয় এবং তার মধ্যে পাঁচ দিন সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটি থাকে, তাহলে সাধারণভাবে ১৫ দিনের ছুটির হিসাবই প্রযোজ্য হবে; ১০ দিন নয়।
তবে ছুটির আগে বা পরে সরকারি ছুটি সংযুক্ত করা এবং অনুমোদিত ছুটির মাঝখানে সরকারি ছুটি পড়ার বিষয় দুটি এক নয়। Prefix ও Suffix ছুটির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে ছুটির কার্যকর তারিখ নির্ধারিত হয়।
বিদেশে যাওয়ার জন্য কি শুধু অর্জিত ছুটি নেওয়া যায়?
বহিঃবাংলাদেশ ছুটির ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের নির্দিষ্ট প্রশাসনিক বিধি ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে হয়। বিদেশে যাওয়ার আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৮৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জারি করা সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনায় বিদেশে অর্জিত ছুটি ভোগের ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছুটি মঞ্জুর না করে বিদেশে গিয়ে পরে ছুটির আবেদন করা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়া নৈমিত্তিক ছুটির মতো সব ধরনের ছুটি বিদেশে অবস্থানের অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। বিদেশে অবস্থানের মেয়াদ, ছুটির ধরন এবং দেশে ফেরার সম্ভাব্য তারিখ যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হয়।
তবে বিদেশে যাওয়ার জন্য সব পরিস্থিতিতে শুধু অর্জিত ছুটিই একমাত্র বিকল্প—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী অন্যান্য ছুটির ধরনও বিবেচিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ছুটির প্রাপ্যতা, ছুটির প্রকৃতি এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশে অবস্থানকালে মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়া যাবে কি?
এ বিষয়ে নারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কারণ চিকিৎসা, পারিবারিক প্রয়োজন কিংবা ব্যক্তিগত কারণে অনেকেই বিদেশে অবস্থান করেন। এ সময় গর্ভাবস্থা বা সন্তান প্রসবের কারণে মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
মাতৃত্বকালীন ছুটি অর্জিত ছুটির মতো নয়। এটি একটি স্বতন্ত্র ছুটির ব্যবস্থা এবং এর জন্য পৃথক বিধান রয়েছে।
নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯-এর বিধি ৯-এ মাতৃত্বজনিত ছুটিসহ বিশেষ কিছু ছুটির বিধান সংরক্ষণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তবে বিদেশে অবস্থানকালে মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন, আগের বহিঃবাংলাদেশ ছুটির সঙ্গে সমন্বয় এবং অনুমোদনের প্রশাসনিক পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
অর্থাৎ, বিদেশে অবস্থান করছেন বলে মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করা যাবে না—এমন সাধারণ সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। তবে আবেদন করলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে, সেটিও বলা যাবে না।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কাছে যথাযথ চিকিৎসা সনদসহ আবেদন উপস্থাপন করা এবং লিখিত অনুমোদন গ্রহণ করা।
ভারতে অবস্থানরত নারী সরকারি কর্মচারী কীভাবে মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করবেন?
যেসব নারী সরকারি কর্মচারী বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখানে গর্ভাবস্থার চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য একটি সম্ভাব্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে।
প্রথমে ভারতে যে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা চলছে, সেখান থেকে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। এরপর নিজ কর্মস্থল, পদবি, কর্মচারী পরিচিতি, পূর্ববর্তী ছুটির অনুমোদন এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে আবেদন প্রস্তুত করতে হবে।
আলোচনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে নিজ মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি সম্ভাব্য যোগাযোগের পথ। তবে হাইকমিশন নিজে সাধারণত ছুটি মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ নয়; ছুটি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের।
আবেদনের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:
১. চিকিৎসকের সনদ সংগ্রহ: ভারতের হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছ থেকে গর্ভাবস্থা, গর্ভকাল, সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সনদ নিতে হবে।
২. মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন প্রস্তুত: আবেদনে নিজের নাম, পদবি, কর্মস্থল, বর্তমান বিদেশে অবস্থানের ঠিকানা এবং কত তারিখ থেকে ছুটি প্রয়োজন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
৩. পূর্ববর্তী ছুটির তথ্য সংযুক্ত: আগে থেকে বহিঃবাংলাদেশ ছুটি অনুমোদিত থাকলে সেই অনুমোদনপত্র আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
৪. হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ: ভারতে অবস্থানরত সরকারি কর্মচারী সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনস্যুলার বা সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন ও নথিপত্র নিজ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উপযুক্ত পদ্ধতি জানতে পারেন।
৫. নিজ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখায় যোগাযোগ: সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসন শাখার মাধ্যমে আবেদনটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. লিখিত অনুমোদন সংগ্রহ: মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর হলে লিখিত অফিস আদেশ সংগ্রহ করতে হবে। আগের বহিঃবাংলাদেশ ছুটি কখন শেষ হবে এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি কখন থেকে কার্যকর হবে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন।
মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদনে কী কী কাগজপত্র লাগতে পারে?
আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্রের তালিকা ভিন্ন হতে পারে।
সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় নথি হলো—
১. মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদনপত্র।
২. ভারতের হাসপাতাল বা চিকিৎসকের মেডিকেল সার্টিফিকেট।
৩. গর্ভাবস্থার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রতিবেদন।
৪. সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ উল্লেখ করা চিকিৎসকের প্রত্যয়ন।
৫. পাসপোর্ট ও বিদেশে অবস্থানের প্রাসঙ্গিক তথ্য।
৬. পূর্ববর্তী বহিঃবাংলাদেশ ছুটির অনুমোদনপত্র।
৭. ছুটি প্রাপ্যতার সনদ, যদি প্রয়োজন হয়।
৮. পূর্বে মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগের তথ্য, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।
বিদেশি চিকিৎসকের সনদ গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সত্যায়ন বা অনুবাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, সেটিও আগে জেনে নেওয়া উচিত।
হাই-রিস্ক আইভিএফ প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রে কী করণীয়?
আইভিএফ পদ্ধতিতে গর্ভধারণের পর চিকিৎসকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসক গর্ভাবস্থাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।
এমন পরিস্থিতিতে কোনো নারী সরকারি কর্মচারী বিদেশে অবস্থান করলে তাঁর জন্য চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণ করা বিশেষভাবে জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং পর্যবেক্ষণের কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। চিকিৎসকের সনদে গর্ভাবস্থার অবস্থা, গর্ভকাল, সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিবরণ থাকলে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা সহজ হতে পারে।
এক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থানের সময় বাড়ানোর দরকার হলে আগের অনুমোদিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত সময় বিদেশে অবস্থান করলে চাকরিসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়
অর্জিত ছুটি, বহিঃবাংলাদেশ ছুটি এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।
- ছুটির অনুমোদন ছাড়া বিদেশে যাওয়া উচিত নয়।
- অনুমোদিত ছুটির মেয়াদে মাঝখানে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি পড়লে সেগুলো সাধারণভাবে ছুটির সময়ের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- ছুটির আগে বা পরে সরকারি ছুটি সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে আলাদা বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
- মাতৃত্বকালীন ছুটি অর্জিত ছুটির মতো নয়; এর জন্য পৃথক বিধান রয়েছে।
- বিদেশে অবস্থানকালে মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।
- হাইকমিশনের মাধ্যমে আবেদন পাঠানো যেতে পারে, তবে ছুটি মঞ্জুরের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
- চিকিৎসাজনিত কারণে বিদেশে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হলে যথাযথ অনুমোদন নিতে হবে।
শেষ কথা
সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অর্জিত ছুটি ও সরকারি ছুটির হিসাব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। দীর্ঘ সরকারি ছুটির সঙ্গে অর্জিত ছুটি যুক্ত করে বিদেশে গেলে মাঝখানের সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটিগুলো সাধারণ নিয়মে ছুটির মেয়াদের অংশ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ফলে শুধু ওই দিনগুলো বাদ দিয়ে অর্জিত ছুটি গণনা করার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, বিদেশে অবস্থানরত কোনো নারী সরকারি কর্মচারীর মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রয়োজন হলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সনদসহ আবেদন করতে পারেন। ভারতে অবস্থানরত কর্মচারীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তায় নিজ মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ আইভিএফ গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি চাকরিসংক্রান্ত ছুটির বিষয়টিও যথাযথভাবে সমন্বয় করা প্রয়োজন। তাই অনুমোদিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসন শাখা ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।




