সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশিত পোস্ট ১৬১টি ক্যাটাগরি ২০টি
সর্বশেষ আপডেট ১১:২৩ অপরাহ্ণ লাইভ

পে স্কেল • পেনশন • ছুটি • সরকারি প্রজ্ঞাপন ও গেজেটের সর্বশেষ আপডেট

সরকারি আপডেট
সরকারি ওয়েবসাইটের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন, গেজেট ও পরিপত্র এখানে দেখা যাবে
অন্যান্য

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ৭ নভেম্বর ব্যাংক বন্ধ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা জারি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ৭ নভেম্বর ব্যাংক বন্ধ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা জারি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এদিন ব্যাংকগুলোর সব ধরনের নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে দেশের কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা সার্কুলার লেটারে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে আগামী ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন বন্ধ থাকবে ব্যাংক?

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা দিয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ফলে এদিন ব্যাংকের শাখা ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য প্রযোজ্য হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

কোন কোন ব্যাংকিং সেবা বন্ধ থাকবে?

৭ নভেম্বর শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় শাখাভিত্তিক নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যাবে না। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ব্যাংকের শাখায় সরাসরি টাকা জমা ও উত্তোলন;
  • চেক জমা, নিষ্পত্তি ও সংশ্লিষ্ট শাখাভিত্তিক কার্যক্রম;
  • ব্যাংকের কাউন্টার থেকে গ্রাহকসেবা গ্রহণ;
  • নতুন হিসাব খোলা ও অন্যান্য নিয়মিত শাখাভিত্তিক সেবা;
  • ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন।

তবে এটিএম বুথ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে কিছু সেবা চালু থাকতে পারে। এসব সেবার প্রাপ্যতা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।

একইভাবে, নির্দিষ্ট লেনদেনের নিষ্পত্তি বা আন্তঃব্যাংক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার কার্যসূচি ও ব্যাংকের নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।

গ্রাহকদের জন্য কী করণীয়?

ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে যেসব গ্রাহকের জরুরি আর্থিক লেনদেন রয়েছে, তাঁদের আগেভাগেই প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, বেতনভোগী, পেনশনভোগী এবং নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের লেনদেনের সময়সূচি পরিকল্পনা করে রাখা উচিত।

কোনো চেক জমা দেওয়া, বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলন, ঋণের কিস্তি পরিশোধ কিংবা ব্যবসায়িক লেনদেনের নির্ধারিত সময় থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নেওয়া ভালো। ছুটির কারণে কোনো লেনদেনের নিষ্পত্তিতে সময়ের পরিবর্তন হতে পারে।

এ ছাড়া ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারকারীদেরও নিজ নিজ ব্যাংকের অ্যাপ, এটিএম ও অনলাইন সেবার কার্যকারিতা সম্পর্কে আগে থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় সাপ্তাহিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে

বাংলাদেশে ব্যাংকের সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির সূচি অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে সরকারি ছুটির দিনে ব্যাংকের শাখাভিত্তিক সেবা বন্ধ থাকলে গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করে, তাদের ছুটির দিন বিবেচনায় নিয়ে লেনদেনের সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব ও ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের সার্কুলার লেটারটি দেশের কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। এতে ৭ নভেম্বর ২০২৬ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ব্যাংক বন্ধ রাখার বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নির্দেশনার ভিত্তি হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ রয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেষ কথা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ফলে গ্রাহকদের শাখাভিত্তিক নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা পেতে পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। জরুরি আর্থিক লেনদেন থাকলে নির্ধারিত ছুটির আগেই তা সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই হবে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের সার্কুলার লেটার এবং চিঠিতে উল্লেখিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপন।

আপনার মতামত লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।