মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশিত পোস্ট ১৬১টি ক্যাটাগরি ২০টি
সর্বশেষ আপডেট ১১:২৩ অপরাহ্ণ লাইভ

পে স্কেল • পেনশন • ছুটি • সরকারি প্রজ্ঞাপন ও গেজেটের সর্বশেষ আপডেট

সরকারি আপডেট
সরকারি ওয়েবসাইটের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন, গেজেট ও পরিপত্র এখানে দেখা যাবে
অন্যান্য

বেতনে নতুন স্কেল, ভাতায় পুরোনো হিসাব: আপনার হাতে আসলে কত আসছে, জানতে ভরুন এই ফরম

বেতনে নতুন স্কেল, ভাতায় পুরোনো হিসাব: আপনার হাতে আসলে কত আসছে, জানতে ভরুন এই ফরম

২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত মূল বেতন ২০২৬ স্কেলে, ভাতা ২০১৫ স্কেলে। এই মিশ্র হিসাব বুঝিয়ে দিতে চালু হলো অনলাইন বেতন স্লিপ ও “নতুন বেতন বিবরণী ২০২৬” ফরম

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ কার্যকর ধরা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে, কিন্তু সুবিধাটি একসঙ্গে মেলেনি। মূল বেতন বাড়ছে ধাপে ধাপে, আর শতভাগ কার্যকর হবে ১ জুলাই ২০২৭ থেকে। বিভিন্ন ভাতার নতুন হার চালু হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে। ফলে এখন থেকে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত একজন সরকারি কর্মচারীর বেতন স্লিপে মূল বেতন নতুন স্কেলের, কিন্তু বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, টিফিনসহ ভাতাগুলো ২০১৫ সালের পুরোনো হারের।

এই মিশ্র কাঠামোতে অনেকেই হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ সমস্যার সমাধানে তৈরি হয়েছে একটি অনলাইন ফরম। গ্রেড ও ৩০-০৬-২০২৬ তারিখের মূল বেতন দিলেই এটি তিনটি শিট তৈরি করে: অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৬ এর বেতন স্লিপ, ০১-০৭-২০২৭ হতে বেতন স্লিপ এবং “নতুন বেতন বিবরণী ২০২৬”।

কেন এই ফরম দরকার

নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণে শুধু গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন দেখলে চলে না। প্রতিটি কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ এর মূল বেতন আলাদাভাবে বিবেচনা করে ধাপ ঠিক হয়। এরপর ১ জুলাই ২০২৬ এর বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়। তারপর নতুন স্কেলের বর্ধিত অংশ কয়েকটি পর্যায়ে কার্যকর হয়। এর ওপর যোগ হয় ভাতা, যার হার মূল বেতনের স্তরভেদে আলাদা। এতগুলো ধাপ হাতে হিসাব করলে ভুলের ঝুঁকি থাকে, আর বেতন নির্ধারণের কাজ iBAS++ এ হওয়ায় নিজের একটি আনুমানিক হিসাব হাতে থাকলে যাচাই করা সহজ হয়।

একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক

ধরা যাক, একজন কর্মচারী ১০ম গ্রেডে আছেন এবং ৩০-০৬-২০২৬ তারিখে তাঁর মূল বেতন ২৪,৮৭০ টাকা।

  • পুরোনো স্কেলে ১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ১৬,০০০ টাকা, তাই পার্থক্য ৮,৮৭০ টাকা।
  • নতুন স্কেলে ১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ৩২,০০০ টাকা। পার্থক্য যোগ করলে হয় ৪০,৮৭০ টাকা, যার নিকটবর্তী উচ্চতর ধাপ ৪০,৯০০ টাকা।
  • ১ জুলাই ২০২৬ এর ইনক্রিমেন্টে বেতন হয় ৪২,৯০০ টাকা।
  • ১ জুলাই ২০২৭ এ আরেক ধাপ এগিয়ে শতভাগ মূল বেতন দাঁড়ায় ৪৫,১০০ টাকা।

মাঝের সময়ে বেতন কেমন থাকবে, তা নির্ভর করে বর্ধিত অংশের কতটুকু কার্যকর হচ্ছে তার ওপর:

সময়কাল বর্ধিত অংশের কার্যকর হার (গ্রেড ১০–২০) মূল বেতন
জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ ৫০% ৩৪,৮৮৫ টাকা
জানুয়ারি–জুন ২০২৭ ৭৫% ৩৮,৮৯৩ টাকা
০১-০৭-২০২৭ হতে ১০০% ৪৫,১০০ টাকা

গ্রেড ১–৯ এর ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ৪০% ও ৭০% বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। গ্রেড ১০–২০ এর হিসাব প্রকাশিত চার্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেছে, কিন্তু গ্রেড ১–৯ এর হার মূল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

এই মূল বেতনের ওপর ভাতা যোগ হয় ২০১৫ সালের হারে। উদাহরণের কর্মচারী যদি বিভাগীয় শহর বা সাভার এলাকায় কর্মরত হন, তাহলে অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৬ এ মাসিক মোট প্রাপ্য দাঁড়ায় প্রায় ৫২,০৮৩ টাকা। ০১-০৭-২০২৭ হতে তা হয় প্রায় ৬৪,৬৪০ টাকা। এটি কর্তনের আগের অঙ্ক।

২০১৫ স্কেলের ভাতার হার যেভাবে ধরা হয়েছে

  • বাড়িভাড়া: মূল বেতনের স্তর ও কর্মস্থলভেদে ৩৫% থেকে ৬৫% পর্যন্ত, সঙ্গে স্তরভিত্তিক সর্বনিম্ন সীমা। ঢাকা সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় শহর ও সাভার এবং অন্যান্য স্থানের হার আলাদা।
  • চিকিৎসা ভাতা: মাসিক ১,৫০০ টাকা।
  • শিক্ষা সহায়ক ভাতা: সন্তানপ্রতি ৫০০ টাকা, সর্বোচ্চ দুই সন্তান।
  • টিফিন ও যাতায়াত: ১১–২০ গ্রেডের জন্য যথাক্রমে ২০০ ও ৩০০ টাকা।
  • ধোলাই ভাতা: ১০০ টাকা।
  • উৎসব ভাতা: বছরে দুটি, প্রতিটি মূল বেতনের ১০০%।
  • বাংলা নববর্ষ ভাতা: মূল বেতনের ২০%।

ফরম পূরণ হবে পাঁচ ধাপে

১. কর্মচারীর তথ্য: নাম, পদবি, অফিস ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর। এগুলো শুধু ছাপার জন্য।
২. বেতনের ভিত্তি: গ্রেড, ৩০-০৬-২০২৬ এর মূল বেতন এবং পিপি থাকলে তার পরিমাণ। পুরো হিসাব এই তিনটি তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে।
৩. ভাতা নির্বাচন: কর্মস্থল, শিক্ষা সহায়ক ভাতার সন্তান সংখ্যা, টিফিন, যাতায়াত ও ধোলাই। মোবাইল বা অন্য ভাতা থাকলে টাকার অঙ্ক সরাসরি লিখতে হবে।
৪. কর্তন: ভবিষ্য তহবিল চাঁদা, ঋণের কিস্তি, আয়কর ও অন্যান্য কর্তন।
৫. প্রিন্ট: তিনটি শিট থেকে প্রয়োজনীয়টি বেছে A4 কাগজে প্রিন্ট বা PDF সংরক্ষণ।

ফরমে এখন গ্রেড ১০ ও মূল বেতন ২৪,৮৭০ টাকার একটি উদাহরণ বসানো আছে। নিজের তথ্য বসালেই সব অঙ্ক বদলে যাবে। মূল বেতন নির্ধারিত সীমার বাইরে হলে বা নির্ধারিত বেতন নতুন স্কেলের সর্বোচ্চ ধাপ ছাড়িয়ে গেলে ফরম সতর্কবার্তা দেখায়।

যা মনে রাখতে হবে

  • এটি সহায়ক হিসাব। চূড়ান্ত অঙ্ক iBAS++ এর বেতন নির্ধারণী বিবরণী ও হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে যাচাই করুন।
  • যাতায়াত ভাতা শুধু সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই সেটি ব্যবহারকারীর বাছাইয়ের ওপর রাখা হয়েছে।
  • ২০১৫ স্কেলের মোবাইল, কার্যভার, পাহাড়ি ইত্যাদি ভাতার হার ফরমে ধরা নেই। এগুলোর টাকা হাতে লিখতে হবে।
  • ভাতা ও বর্ধিত অংশের সব হার ফরমের “হার ও শতাংশ” অংশে সংশোধন করা যায়, গেজেটের সঙ্গে অমিল পেলে সেখানে ঠিক করে নিতে পারেন।
  • ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য শুধু তাঁর নিজের ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকে।

ফরমের লিংক: বেতন স্লিপ ও নতুন বেতন বিবরণী ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।