জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ কার্যক্রমে iBAS++ সফটওয়্যারে বিভিন্ন তথ্যগত জটিলতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান পদবি নির্বাচন করতে না পারা, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ফিক্সেশন, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের বেতন নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক তথ্য পূরণ এবং অবসর-উত্তর ছুটিতে (PRL) থাকা কর্মচারীদের করণীয় নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
এদিকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী অনলাইনে বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য iBAS++ পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠানোসংক্রান্ত একটি নোটিশ প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে, ৫ অক্টোবর থেকে পে-ফিকেশন কার্যক্রম শুরু এবং ২০ অক্টোবরের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
তবে সফটওয়্যারে কোনো অপশন না পাওয়া এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী ফিক্সেশনের অযোগ্য হওয়া এক বিষয় নয়। তাই কর্মচারীদের উচিত সঠিক চাকরির তথ্য ব্যবহার করা, প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করা এবং কোনো জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের সহায়তা নেওয়া।
১. iBAS++ পে-ফিকেশনে পদবি পাওয়া না গেলে কী করবেন?
পে-ফিকেশন ফরম পূরণ করার সময় অনেক কর্মচারীর সামনে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হচ্ছে—বর্তমান পদের সঠিক পদবি ড্রপডাউন তালিকায় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কোন পদ নির্বাচন করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
সরবরাহ করা স্ক্রিনশটে দেখা যায়, বর্তমান পদবি নির্বাচন করার ঘরে ‘নির্বাচন করুন’ অপশন দেখাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মচারীকে সঠিক পদবি খুঁজে বের করা এবং চাকরির রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য পূরণ করা জরুরি।
করণীয়:
- নিয়োগপত্র, পদোন্নতির আদেশ ও সার্ভিস বুক অনুযায়ী নিজের প্রকৃত পদবির নাম যাচাই করুন।
- পদবির বানান বা বিকল্প নাম দিয়ে অনুসন্ধান করুন।
- পদবি তালিকায় না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক শাখা, DDO অথবা হিসাবরক্ষণ অফিসকে বিষয়টি জানান।
- কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো পদবি নির্বাচন করবেন না।
- প্রয়োজনে সিস্টেমে পদবি অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের বিষয়ে নির্দেশনা নিন।
কোনো কোনো অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনায় সমপদের পদবি ব্যবহার করে আপাতত ফিক্সেশন করার কথা বলা হলেও, এ বিষয়ে সবার জন্য প্রযোজ্য আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিশ্চিত না করে তা অনুসরণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। ভুল পদবি দিয়ে ফিক্সেশন করলে ভবিষ্যতে চাকরির তথ্য যাচাই ও বেতন নির্ধারণে জটিলতা হতে পারে।
২. ৩০ জুন ২০২৬-এর আগে পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড পেলে কী হবে?
পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আদেশটি কবে জারি হয়েছে এবং সেটি কোন তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে।
সরবরাহ করা নির্দেশনামূলক তথ্যে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬-এর আগে যাঁদের নতুন নিয়োগ, পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড কার্যকর হয়েছে, তাঁদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোনো বেতনস্কেল অনুযায়ী ফিক্সেশন করতে সমস্যা হতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মচারীদের প্রথমে সংশ্লিষ্ট আদেশ ও বেতন নির্ধারণের ইতিহাস যাচাই করা উচিত। পুরোনো ফিক্সেশন সুবিধা বন্ধ থাকার বিষয়ে প্রচারিত বক্তব্যকে সব ধরনের নিয়োগ, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বিশেষভাবে যাচাই করতে হবে:
১. পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের আদেশের তারিখ।
২. আদেশটি কার্যকর হওয়ার তারিখ।
৩. ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সর্বশেষ মূল বেতন।
৪. পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের রেকর্ড।
৫. সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি বিধান।
যদি সফটওয়্যারে ফিক্সেশন করার অপশন না পাওয়া যায়, তাহলে নিজের মতো করে অন্য কোনো অপশন নির্বাচন না করে হিসাবরক্ষণ অফিসের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড কার্যকর হলে করণীয়
যাঁদের পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন নির্ধারণ এবং পরবর্তী পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের ফিক্সেশনের ক্রম গুরুত্বপূর্ণ।
প্রদত্ত নির্দেশনায় প্রথমে ২০২৬ সালের পে-ফিকেশন সম্পন্ন করে পরে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের ফিক্সেশন করার কথা বলা হয়েছে।
সহজভাবে বিষয়টি হলো:
প্রথম ধাপ: ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মূল বেতন ও চাকরির তথ্য যাচাই করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: প্রযোজ্য নিয়ম অনুসারে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী পে-ফিকেশন করুন।
তৃতীয় ধাপ: পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের আদেশের কার্যকরের তারিখ ও সংশ্লিষ্ট বিধি যাচাই করুন।
চতুর্থ ধাপ: প্রয়োজন অনুযায়ী পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন করুন।
তবে পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেড এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চাকরির ধরন, নিয়োগবিধি ও আদেশের ওপর নির্ভর করে সঠিক পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।
৪. নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের পে-ফিকেশনে বিশেষ সতর্কতা
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চাকরির ইতিহাস ও প্রথম নিয়োগের তথ্য সঠিকভাবে সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
সরবরাহ করা নির্দেশনায় ‘Fixation Eligibility (First Recruitment)’ এন্ট্রি ও অনুমোদনের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এই পদ্ধতি কোন কোন শ্রেণির কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের করণীয়:
- নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্রের তথ্য যাচাই করা।
- প্রথম যোগদানের তারিখ সঠিকভাবে দেওয়া।
- পদবি, গ্রেড ও কর্মস্থলের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া।
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রথম নিয়োগের যোগ্যতা-সংক্রান্ত এন্ট্রি সম্পন্ন করা।
- প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পে-ফিকেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।
নিয়োগের তথ্য সিস্টেমে না থাকলে বা অনুমোদনের ধাপ অসম্পূর্ণ থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহায়তা নেওয়া উচিত।
৫. পে-ফিকেশন ফরমে কোন তথ্য বাধ্যতামূলক?
iBAS++ ফরমে যেসব ঘরের পাশে তারকা (*) চিহ্ন রয়েছে, সেগুলো বাধ্যতামূলক তথ্য হিসেবে পূরণ করতে হবে। অন্য ঘরগুলোতে তথ্য না থাকলে তা পূরণের প্রয়োজনীয়তা সংশ্লিষ্ট ফরমের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
ফরম পূরণের সময় নিচের তথ্যগুলো বিশেষভাবে মিলিয়ে দেখা উচিত:
| তথ্যের ধরন | কী যাচাই করবেন |
|---|---|
| যোগদানের তারিখ | নিয়োগ ও যোগদানপত্রের সঙ্গে মিল |
| ক্যাডার বা সার্ভিস | প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সঠিক সার্ভিস নির্বাচন |
| সার্ভিস পরিচিতি নম্বর | চাকরির রেকর্ডের সঙ্গে মিল |
| মন্ত্রণালয় বা বিভাগ | বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী নির্বাচন |
| অধিদপ্তর বা পরিদপ্তর | সঠিক দপ্তর নির্বাচন |
| অফিস বা অপারেশনাল ইউনিট | প্রকৃত কর্মস্থলের সঙ্গে মিল |
| প্রথম যোগদানের পদবি | নিয়োগপত্র অনুযায়ী তথ্য |
| বর্তমান পদবি | বর্তমান পদ ও আদেশ অনুযায়ী নির্বাচন |
| সমতুল্য গ্রেড | প্রযোজ্য বেতনস্কেল ও পদসংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী নির্বাচন |
যেসব তথ্যের ঘরে তারকা চিহ্ন নেই, সেগুলো সব ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। কোনো তথ্য প্রযোজ্য হলে তা সঠিকভাবে পূরণ করাই ভালো।
৬. PRL-এ থাকা কর্মচারীরা কী করবেন?
অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের বেতন ও পেনশনসংক্রান্ত বিষয় সাধারণ কর্মরত কর্মচারীদের তুলনায় আলাদা হতে পারে।
সরবরাহ করা নির্দেশনায় ১ জুলাই ২০২৬-এর পর PRL-এ যাওয়া কর্মচারীদের বিষয়ে পৃথক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে নতুন সিদ্ধান্ত জারি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সরকারি আদেশ যাচাই করা প্রয়োজন।
PRL-এ থাকা কর্মচারীদের উচিত:
- অবসর ও PRL শুরুর তারিখ যাচাই করা।
- সর্বশেষ মূল বেতন ও চাকরির রেকর্ড সংরক্ষণ করা।
- প্রযোজ্য সরকারি আদেশ অনুযায়ী পেনশন নির্ধারণের নিয়ম যাচাই করা।
- সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের কাছ থেকে নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পদ্ধতি জেনে নেওয়া।
কোনো নির্দিষ্ট তারিখে অবসরে যাওয়া কর্মচারী নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন কি না, তা অনুমান করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
৭. সময়মতো পে-ফিকেশন না করলে বেতন পেতে দেরি হবে?
পে-ফিকেশন সময়মতো সম্পন্ন করা বেতন ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বেতন নির্ধারণ, তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বেতনসংক্রান্ত কার্যক্রমে বিলম্ব হতে পারে।
তবে পে-ফিকেশন সম্পন্ন না হলেই প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন বন্ধ হয়ে যাবে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বেতন বিল প্রস্তুত, অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
৫ অক্টোবর থেকে পে-ফিকেশন শুরু এবং ২০ অক্টোবরের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে নিজের দপ্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সময়সীমা এবং পরবর্তী নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে নিশ্চিত করা উচিত।
কর্মচারীদের জন্য করণীয় হলো, শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখা এবং কোনো ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।
৮. পে-ফিকেশনে সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করবেন?
পে-ফিকেশনের সময় পদবি না পাওয়া, অফিস নির্বাচন করতে না পারা, নিয়োগের তথ্য না মেলা, গ্রেডে অসামঞ্জস্য কিংবা সাবমিশনে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
সমস্যা অনুযায়ী করণীয়:
পদবি পাওয়া যাচ্ছে না: প্রশাসনিক শাখা বা হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে পদবির সঠিকতা যাচাই করুন।
নিয়োগের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না: নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র এবং সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত তথ্য মিলিয়ে দেখুন।
পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের ফিক্সেশন হচ্ছে না: সংশ্লিষ্ট আদেশের কার্যকরের তারিখ এবং প্রযোজ্য বিধি যাচাই করুন।
অফিস বা অপারেশনাল ইউনিট পাওয়া যাচ্ছে না: সঠিক দপ্তর ও কর্মস্থলের তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।
সাবমিশনে ত্রুটি দেখাচ্ছে: ত্রুটির বার্তা সংরক্ষণ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা হিসাবরক্ষণ অফিসের সহায়তা নিন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে ফরম জমা দেওয়া উচিত নয়।
৯. পে-ফিকেশন সম্পন্ন করার আগে শেষবার যা যাচাই করবেন
পে-ফিকেশন চূড়ান্ত করার আগে নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে নিন:
- যোগদানের তারিখ সঠিক।
- ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মূল বেতন সঠিক।
- প্রথম নিয়োগের পদবি ও বর্তমান পদবি সঠিক।
- বর্তমান গ্রেড ও কর্মস্থলের তথ্য সঠিক।
- পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের আদেশের তথ্য সঠিক।
- বাধ্যতামূলক ঘরগুলো পূরণ করা হয়েছে।
- প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে।
- সাবমিশনের পর প্রদর্শিত অবস্থা যাচাই করা হয়েছে।
ফরম পূরণ করলেই সব ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায় না। প্রয়োজনীয় যাচাই, অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য শেষ পরামর্শ
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী iBAS++ পে-ফিকেশন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে পদবি, চাকরির ইতিহাস, নিয়োগের তারিখ, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং PRL-সংক্রান্ত তথ্যের যথার্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো পদবি তালিকায় না পাওয়া গেলে বা ফিক্সেশন আটকে গেলে সেটিকে সরাসরি অযোগ্যতা হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। আবার অনুমতি ছাড়া সমপদের অন্য পদবি নির্বাচন করাও নিরাপদ পদ্ধতি নয়। সরকারি আদেশ, চাকরির নথি এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
সতর্কতা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সব নির্দেশনা সরকারি প্রজ্ঞাপন নয়। বিশেষ করে পদবি পরিবর্তন, পুরোনো ফিক্সেশন, নতুন নিয়োগের যোগ্যতা এবং PRL-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিন।
তথ্যসূত্র
১. অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়—iBAS++-সংক্রান্ত নির্দেশিকা ও তথ্য: https://mof.gov.bd/
২. শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়—৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত iBAS++ পে-ফিকেশন কার্যক্রমের জন্য জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রেরণসংক্রান্ত নোটিশ: https://mole.gov.bd/




