নতুন জাতীয় বেতনস্কেলের গেজেট জারি হয়েছে, কিন্তু অনেক কর্মচারীর প্রশ্ন একটাই: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ঠিক কত টাকা বকেয়া পাব? উত্তরটা সরাসরি নয়, কারণ বকেয়ার হিসাবে নতুন মূল বেতন, ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধা আর বাড়ি ভাড়ার সমন্বয়, সবই একসঙ্গে বিবেচনায় আসে। এই জটিলতা কমাতে একটি এইচটিএমএল ক্যালকুলেটর ফরম তৈরি করা হয়েছে। এতে গ্রেড এবং দুটি মূল বেতনের অঙ্ক দিলেই বকেয়া বিবরণী তৈরি হয়ে যায়।
গেজেটে কী বলা হয়েছে
অর্থ বিভাগের এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬ (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) অনুযায়ী, “চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬”-এ ২০টি গ্রেড বহাল আছে। প্রকাশিত তথ্যে ১ম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারিত ১,৫৬,০০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ২০,০০০ টাকা। আদেশ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর। তবে বর্ধিত বেতন একবারে নয়, ধাপে ধাপে দেওয়া হচ্ছে:
| সময় | গ্রেড ১–৯ | গ্রেড ১০–২০ |
|---|---|---|
| জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ | বৃদ্ধির ৪০% | বৃদ্ধির ৫০% |
| জানুয়ারি–জুন ২০২৭ | বৃদ্ধির ৭০% | বৃদ্ধির ৭৫% |
| ১ জুলাই ২০২৭ থেকে | পূর্ণ ১০০% | পূর্ণ ১০০% |
আদেশ জারির আগের সময়ের বর্ধিত বেতন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হবে।
বকেয়ার হিসাবে তিনটি “বিয়োগ”
বকেয়া মানে শুধু নতুন বেতন থেকে পুরোনো বেতন বিয়োগ নয়। জুলাই থেকে সবাই পুরোনো স্কেলেই বেতন তুলেছেন, তাই তিনটি বিষয়ে সমন্বয় করতে হয়:
- মূল বেতনের পার্থক্য। প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতন থেকে জুলাইয়ে গৃহীত মূল বেতন বিয়োগ হবে।
- বিশেষ সুবিধা। আগের ৫% এর জায়গায় অর্থ বিভাগের জুন ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপনে গ্রেড ৯ ও তার ঊর্ধ্বে ১০% এবং গ্রেড ১০–২০-এ ১৫% নির্ধারিত ছিল। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এটি বিলুপ্ত, তাই জুলাই থেকে তোলা অঙ্ক বকেয়া থেকে কাটা যাবে।
- বাড়ি ভাড়া। ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রাপ্য বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। কিন্তু অনেকে জুলাইয়ে বর্ধিত মূল বেতনের ওপর হিসাব করে বেশি বাড়ি ভাড়া তুলেছেন। এই বাড়তি অংশ সমন্বয় হবে। নতুন ভাতার হার কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে।
একটি উদাহরণ
একজন গ্রেড ১৩ কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ১৭,৯৬০ টাকা। জুলাইয়ে পুরোনো স্কেলে বার্ষিক বৃদ্ধিসহ তিনি ১৮,৮৬০ টাকা তুলেছেন। কর্মস্থল “অন্যান্য সব স্থান” (বাড়ি ভাড়া ৪০%) ধরে হিসাব এমন দাঁড়ায়:
- নতুন পূর্ণ মূল বেতন: পুরোনো বেতন থেকে প্রারম্ভিক ধাপের পার্থক্য ৬,৯৬০ টাকা। এটি নতুন প্রারম্ভিক ২৪,০০০ টাকার সঙ্গে যোগ করলে হয় ৩০,৯৬০ টাকা। পরবর্তী উচ্চতর ধাপ ৩২,২০০ টাকা। বার্ষিক বৃদ্ধিসহ পূর্ণ মূল বেতন ৩৩,৮০০ টাকা।
- প্রথম ধাপে মূল বেতন: বৃদ্ধির (১৫,৮৪০ টাকা) ৫০% যোগ করে ২৫,৮৮০ টাকা।
- মূল বেতনের পার্থক্য: ২৫,৮৮০ − ১৮,৮৬০ = ৭,০২০ টাকা।
- বাড়ি ভাড়া সমন্বয়: প্রাপ্য ৭,১৮৪ (৩০ জুনের বেতনের ৪০%), গৃহীত ৭,৫৪৪ (গৃহীত বেতনের ৪০%)। পার্থক্য −৩৬০ টাকা।
- বিশেষ সুবিধা বিয়োগ: ১৮,৮৬০ টাকার ১৫%, অর্থাৎ ২,৮২৯ টাকা।
মাসিক বকেয়া দাঁড়ায় ৭,০২০ − ৩৬০ − ২,৮২৯ = ৩,৮৩১ টাকা। তিন মাসে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) মোট ১১,৪৯৩ টাকা। এই উদাহরণ একটি প্রকাশিত ক্যালকুলেটরের নমুনার সঙ্গে হাতে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
ফরম পূরণের নিয়ম সংক্ষেপে
ফাইলটি ব্রাউজারে খুলুন। ইন্টারনেট লাগবে না।
- নাম, পদবি ও অফিসের নাম লিখুন (ছাপা বিবরণীতে আসবে)।
- ড্রপ ডাউন থেকে ২০১৫ স্কেলের গ্রেড বাছুন।
- ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন এবং জুলাইয়ে গৃহীত মূল বেতন বাছুন। তালিকায় না থাকলে “অন্য অঙ্ক লিখব” ব্যবহার করুন।
- কর্মস্থল বাছুন এবং বাড়ি ভাড়ার হার পে-স্লিপের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
- ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির বয়স ছয় মাসের কম হলে বার্ষিক বৃদ্ধির টিক তুলে দিন।
- ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে নিচে দেখা যাবে। “বিবরণী প্রিন্ট করুন” চেপে স্বাক্ষরের ঘরসহ বিবরণী ছাপুন।
পে-স্লিপে বাড়ি ভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক আলাদা থাকলে ঐচ্ছিক অংশে প্রকৃত অঙ্ক দেওয়ার সুযোগ আছে।
সতর্কতা
এই ক্যালকুলেটর একটি অনানুষ্ঠানিক সহায়িকা। নতুন স্কেলের কিছু গ্রেডের ধাপের অঙ্ক প্রকাশিত সূত্রে অস্পষ্ট বা পরস্পরবিরোধী, তাই ব্যবহারের আগে ক্যালকুলেটরের “স্কেল টেবিল” মূল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। বাড়ি ভাড়ার হারও পে-স্লিপ দেখে নিশ্চিত করতে হবে। চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ হবে আইবাস++ এর পে ফিক্সেশন অপশনে, তাই সেখানকার ফলাফলই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।




