জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম iBAS++ সিস্টেমের মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে। এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হিসাব মহা-নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের আওতাধীন হিসাবরক্ষণ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অনলাইন Zoom প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায় হিসাব মহা-নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের আওতাধীন সিএও, ডিএও, ডিএফও ও ইউএও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশন মডিউল বিষয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্দেশনাটি অর্থ বিভাগের ট্রেনিং অ্যান্ড পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (SPFMS)-এর আওতাধীন BACS and iBAS++ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
iBAS++-এ পে-ফিক্সেশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়াকে অনলাইনভিত্তিক করার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা iBAS++-এ প্রবেশ করে নির্ধারিত ‘Pay Fixation’ অপশনে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবেন। তথ্য জমা দেওয়ার আগে সিস্টেমে নির্ধারণযোগ্য নতুন মূল বেতনের পরিমাণ দেখানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তবে কর্মচারীর তথ্য জমা দেওয়ার পরই প্রক্রিয়া শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট ড্রইং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (DDO) এবং হিসাবরক্ষণ অফিস তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। ফলে পে-ফিক্সেশন কার্যক্রমে হিসাবরক্ষণ দপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই কারণেই সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ দপ্তরের জনবলকে আগে থেকেই নতুন পে-ফিক্সেশন মডিউল সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারা প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন
প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, হিসাব মহা-নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের আওতাধীন—
- সিএও (CAO)
- ডিএও (DAO)
- ডিএফও (DFO)
- ইউএও (UAO)
কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের হিসাবরক্ষণ দপ্তরগুলোকে নতুন বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
Zoom-এ হবে অনলাইন প্রশিক্ষণ
নির্দেশনায় প্রশিক্ষণটি অনলাইন Zoom প্ল্যাটফর্মে আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। সংযুক্ত সময়সূচিতে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে মনোনীত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে।
প্রশিক্ষণে পে-ফিক্সেশন মডিউল ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই এবং অনলাইনভিত্তিক বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের মনোনয়ন ও প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য নির্দেশনায় ibas2.training@gmail.com ই-মেইল ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন হিসাবরক্ষণ দপ্তরের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ
নতুন পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থায় কর্মচারীর দেওয়া তথ্য শুধু একটি অনলাইন ফরমে জমা হবে না; পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে।
প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পে-ফিক্সেশনের তথ্য জমা দেওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট DDO-এর কাছে যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে হিসাবরক্ষণ অফিস অনলাইনে তথ্য যাচাই করে অনুমোদন করবে। অনুমোদনের পর সিস্টেম থেকে Verification Number তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে।
ফলে হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন সফটওয়্যার মডিউল সম্পর্কে যথাযথ ধারণা থাকা প্রয়োজন। কোথায় কী তথ্য যাচাই করতে হবে, কোন তথ্য সার্ভিস রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে এবং অনুমোদনের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে—এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে প্রস্তুত করার একটি অংশ।
পে-ফিক্সেশনের আগে তথ্য প্রস্তুত রাখার গুরুত্ব
নতুন পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্যের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত নির্দেশনায় জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, নিয়োগ ও বদলির আদেশ, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড এবং পূর্ববর্তী বেতন পুনঃনির্ধারণসংক্রান্ত আদেশসহ প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে।
নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বইয়ে থাকা পূর্ববর্তী চাকরি ও বেতনের তথ্যও যাচাইয়ের আওতায় আসবে। তাই পে-ফিক্সেশন শুরু হওয়ার আগে চাকরির রেকর্ড, এনআইডি, জন্মতারিখ এবং পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু কর্মচারীর তথ্য নয়, অফিসের জনবল কাঠামোও প্রস্তুত করা হচ্ছে
iBAS++ পে-ফিক্সেশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুধু ব্যক্তিগত কর্মচারীর তথ্য সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক আরেকটি নির্দেশনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জনবল, পদবি, মূল গ্রেড ও পদের সংখ্যা iBAS++-এর Organogram Sub-module-এ অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে।
এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ জনবল-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, পে-ফিক্সেশন সিস্টেম চালুর আগে iBAS++-এর সাংগঠনিক ও জনবলভিত্তিক তথ্যভান্ডার প্রস্তুত করার কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পে-ফিক্সেশনের সম্ভাব্য ধাপ
বর্তমানে প্রকাশিত নির্দেশনা ও তথ্য অনুযায়ী অনলাইন পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়াটি মোটামুটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে—
প্রথম ধাপ: iBAS++-এ প্রবেশ
দ্বিতীয় ধাপ: Pay Fixation অপশনে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান
তৃতীয় ধাপ: সিস্টেমে নতুন নির্ধারিত মূল বেতন যাচাই
চতুর্থ ধাপ: প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা
পঞ্চম ধাপ: DDO কর্তৃক তথ্য যাচাই
ষষ্ঠ ধাপ: হিসাবরক্ষণ অফিসের অনলাইন যাচাই ও অনুমোদন
সপ্তম ধাপ: Verification Number তৈরি
অষ্টম ধাপ: নির্ধারিত নতুন বেতন ও Verification Number সার্ভিস রেকর্ডে সংরক্ষণ।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গেজেটেড কর্মকর্তাদের iBAS++ ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড এবং নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এনআইডি ও জন্মতারিখের মাধ্যমে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লগইনের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে OTP ব্যবহারের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
ভুল তথ্য দিলে জটিলতা তৈরি হতে পারে
অনলাইন ব্যবস্থায় পে-ফিক্সেশন হওয়ায় তথ্যের নির্ভুলতা গুরুত্বপূর্ণ। এনআইডি ও চাকরির রেকর্ডে জন্মতারিখের অমিল, ভুল গ্রেড, ভুল পদবি, পূর্ববর্তী বেতন বা ইনক্রিমেন্টের তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে যাচাইয়ের সময় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশনের আগে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য যাচাই করে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তাই কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো—নিজের চাকরির তথ্য, বর্তমান পদ ও গ্রেড, মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড বা অন্যান্য বেতন পুনঃনির্ধারণের আদেশ এবং এনআইডির তথ্য আগে থেকেই মিলিয়ে রাখা।
নতুন পে স্কেলের বাস্তবায়নে এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য iBAS++-এর ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জারি হওয়া ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এ অনলাইন বেতন নির্ধারণের বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে নতুন পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের জন্য তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—
এক. কর্মচারীর সঠিক ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য;
দুই. সংশ্লিষ্ট অফিসের সঠিক পদ ও গ্রেডভিত্তিক Organogram তথ্য;
তিন. DDO ও হিসাবরক্ষণ অফিসের দক্ষ যাচাই ও অনুমোদন।
বর্তমান প্রশিক্ষণ উদ্যোগটি মূলত তৃতীয় বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
প্রশিক্ষণ থেকে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি
২৮ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পে-ফিক্সেশন মডিউল চালুর আগে যারা বাস্তবে তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের কাজে যুক্ত থাকবেন, তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।
অর্থাৎ এটি শুধু একটি সাধারণ সফটওয়্যার প্রশিক্ষণ নয়; জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে iBAS++-এর সঙ্গে সমন্বিত করার প্রস্তুতির অংশ।
ইতোমধ্যে iBAS++-এর Pay Fixation Sub-system প্রস্তুত করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের Organogram ও জনবল তথ্য হালনাগাদের কাজও এগোচ্ছে।
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| কার্যক্রম | জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর পে-ফিক্সেশন |
| প্রযুক্তি | iBAS++ |
| প্রশিক্ষণ | অনলাইন Zoom |
| প্রশিক্ষণের বিষয় | Pay Fixation Module |
| অংশগ্রহণকারী | CAO, DAO, DFO ও UAO দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী |
| মনোনয়ন | সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় |
| যোগাযোগ | ibas2.training@gmail.com |
| পরবর্তী যাচাই | DDO ও হিসাবরক্ষণ অফিস |
| চূড়ান্ত ফল | নতুন বেতন নির্ধারণ ও Verification Number |
শেষ কথা
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণ এখন একটি বড় ডিজিটাল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। iBAS++-এর Pay Fixation Sub-system প্রস্তুত, অফিসভিত্তিক জনবল ও Organogram তথ্য হালনাগাদ এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ—সবগুলো কার্যক্রম একই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এগোচ্ছে।
২৮ সেপ্টেম্বরের অনলাইন প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত নির্দেশনা তাই পে-ফিক্সেশন কার্যক্রমের মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের জন্য ঠিক কোন তারিখে ব্যক্তিগত পে-ফিক্সেশন খুলবে বা নতুন বেতন কবে থেকে বেতন বিলে প্রতিফলিত হবে—এ বিষয়ে আলাদা চূড়ান্ত নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট তারিখ ধরে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বর্তমানে নিশ্চিত বিষয় হলো, iBAS++-ভিত্তিক পে-ফিক্সেশন বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।




