অর্জিত ছুটি থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি, এলপিআর, নৈমিত্তিক ছুটি ও শ্রান্তি-বিনোদন—সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটির নিয়ম, প্রাপ্যতা, বেতন এবং সংশ্লিষ্ট বিধির রেফারেন্স জানুন
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে ছুটি শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণের সুযোগ নয়; এটি চাকরিবিধি, কর্মচারীর অধিকার, দাপ্তরিক অনুমোদন এবং আর্থিক সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অসুস্থতা, পারিবারিক প্রয়োজন, সন্তান প্রসব, উচ্চশিক্ষা, বিদেশে চিকিৎসা কিংবা অবসরের আগে বিশ্রাম—বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে।
কিন্তু সব ছুটির নিয়ম এক নয়। কোনো ছুটি নির্দিষ্ট হারে জমা হয়, কোনোটি বিশেষ শর্তে মঞ্জুর করা হয়, আবার কোনো ছুটিতে পূর্ণ বেতন পাওয়া যায় না। কিছু ছুটি কেবল নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য। তাই ছুটির নাম জানা যেমন জরুরি, তেমনি এর মেয়াদ, বেতন, আবেদনপদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট বিধি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকাও প্রয়োজন।
সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটিসংক্রান্ত বিধান বুঝতে The Prescribed Leave Rules, 1959, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (BSR), প্রযোজ্য সরকারি আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট আইন গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-তেও ছুটি ও অবসর-উত্তর ছুটিসংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
এই প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিতে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের ছুটি, সেগুলোর ব্যবহার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিধিগত বিষয় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটির তালিকা একনজরে
| ক্রম | ছুটির ধরন | ইংরেজি নাম | প্রধান উদ্দেশ্য |
|---|---|---|---|
| ১ | অর্জিত ছুটি | Earned Leave | চাকরিকাল অনুযায়ী জমা ছুটি ভোগ |
| ২ | অসাধারণ ছুটি | Extraordinary Leave | নির্দিষ্ট শর্তে বিনা বেতনে ছুটি |
| ৩ | অক্ষমতাজনিত ছুটি | Special Disability Leave | দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অক্ষমতা |
| ৪ | অধ্যয়ন ছুটি | Study Leave | অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণ |
| ৫ | সংক্রমণরোধী ছুটি | Quarantine Leave | সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ |
| ৬ | মাতৃত্বকালীন ছুটি | Maternity Leave | সন্তান প্রসব ও মাতৃত্ব |
| ৭ | হাসপাতাল ছুটি | Hospital Leave | নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মচারীর বিশেষ চিকিৎসা ছুটি |
| ৮ | বিশেষ অসুস্থতাজনিত ছুটি | Special Sick Leave | বিশেষ পরিস্থিতিতে চিকিৎসা ছুটি |
| ৯ | অবকাশ বিভাগের ছুটি | Vacation Department Leave | অবকাশভিত্তিক বিভাগে কর্মরতদের ছুটির হিসাব |
| ১০ | বিভাগীয় ছুটি | Departmental Leave | নির্দিষ্ট বিভাগীয় বিধান অনুযায়ী ছুটি |
| ১১ | প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি | Leave Not Due | শর্তসাপেক্ষে ভবিষ্যৎ ছুটির বিপরীতে ছুটি |
| ১২ | অবসর-উত্তর ছুটি | LPR | অবসরের আগে প্রাপ্য ছুটি |
| ১৩ | বাধ্যতামূলক ছুটি | Compulsory Leave | প্রযোজ্য বিশেষ বিধান বা আদেশ অনুযায়ী |
| ১৪ | বহিঃবাংলাদেশ ছুটি | Leave for Out of Bangladesh | বিদেশে অবস্থানকালে অনুমোদিত ছুটি |
| ১৫ | নৈমিত্তিক ছুটি | Casual Leave | স্বল্পমেয়াদি ব্যক্তিগত প্রয়োজন |
| ১৬ | সাধারণ ছুটি | Public Holiday | সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি |
| ১৭ | নির্বাহী আদেশের ছুটি | Executive Order Holiday | সরকারের বিশেষ আদেশে ছুটি |
| ১৮ | ঐচ্ছিক ছুটি | Optional Holiday | প্রযোজ্য নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাচিত ছুটি |
| ১৯ | শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি | Rest and Recreation Leave | বিশ্রাম ও বিনোদনের সুযোগ |
মনে রাখবেন: এটি বিভিন্ন প্রচলিত ছুটির একটি পরিচিতিমূলক তালিকা। সব ধরনের ছুটি সব সরকারি কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য নয়। কোনো কোনো শ্রেণি নির্দিষ্ট চাকরিবিধি, বিভাগীয় আদেশ বা বিশেষ অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
১. অর্জিত ছুটি: কত দিন জমে এবং কীভাবে ভোগ করবেন?
অর্জিত ছুটি সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছুটিগুলোর একটি। কর্মচারী দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ছুটি অর্জন করেন এবং তা তাঁর ছুটির হিসাবে জমা হয়।
নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ অনুযায়ী ছুটি অর্জনের হার কর্মচারীর চাকরির ধরন, চাকরির মেয়াদ ও প্রযোজ্য বিধানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকাশিত একটি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকায় নির্দিষ্ট শর্তে তিন বছর একটানা চাকরি পূর্ণ করার পর গড় বেতনে প্রতি ১১ দিনের দায়িত্ব পালনের বিপরীতে এক দিন এবং অর্ধগড় বেতনে প্রতি ২২ দিনের দায়িত্ব পালনের বিপরীতে এক দিন ছুটি অর্জনের বিবরণ রয়েছে। তবে এ হার সব পরিস্থিতিতে সবার জন্য একই ধরে নেওয়া যাবে না।
অর্জিত ছুটি ভোগের আগে কর্মচারীর ব্যক্তিগত ছুটির হিসাব যাচাই করতে হবে। ছুটি জমা থাকলেও দাপ্তরিক প্রয়োজন, আবেদন এবং অনুমোদনের শর্ত অনুসরণ করতে হয়।
২. অসাধারণ ছুটি: কখন বিনা বেতনে ছুটি পাওয়া যায়?
অসাধারণ ছুটি বা Extraordinary Leave সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে বিবেচিত হয়, যখন অন্য প্রাপ্য ছুটি দিয়ে প্রয়োজন মেটানো সম্ভব নয় অথবা প্রযোজ্য বিধিতে এ ধরনের ছুটির সুযোগ রয়েছে।
এ ছুটিতে সাধারণত বেতন পাওয়া যায় না। তবে ছুটি মঞ্জুরের শর্ত এবং পরবর্তী চাকরিসুবিধার প্রভাব সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
কোনো কর্মচারী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলে বা ব্যক্তিগত কারণে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার প্রয়োজন হলে তাঁর ক্ষেত্রে কোন ধরনের ছুটি প্রযোজ্য, তা প্রশাসন শাখার মাধ্যমে নিশ্চিত করা উচিত।
৩. অক্ষমতাজনিত ও হাসপাতাল ছুটি: সবার জন্য কি একই নিয়ম?
অক্ষমতাজনিত ছুটি এবং হাসপাতাল ছুটিকে সাধারণ চিকিৎসা ছুটির সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। নির্দিষ্ট চাকরির শ্রেণি, দায়িত্ব পালনের সময় আঘাত পাওয়ার ঘটনা, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং প্রযোজ্য বিধির ওপর এ ধরনের ছুটির প্রাপ্যতা নির্ভর করতে পারে।
বিশেষ করে হাসপাতাল ছুটির ক্ষেত্রে কর্মচারী যে পদে কর্মরত, সেই পদ বা শ্রেণির জন্য সংশ্লিষ্ট বিধান কার্যকর কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
৪. অধ্যয়ন ছুটি: উচ্চশিক্ষার জন্য কী করতে হবে?
উচ্চশিক্ষা বা বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য অধ্যয়ন ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ কর্মচারীর চাকরি ও সরকারি স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, অনুমোদনের শর্ত পূরণ হয়েছে কি না এবং ছুটিকালীন আর্থিক সুবিধা কী হবে—এসব বিষয় বিবেচনা করা হয়।
আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র এবং প্রযোজ্য চাকরিবিধি যাচাই করা উচিত।
৫. মাতৃত্বকালীন ছুটি: প্রচলিত নিয়ম কী?
বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের বিধি ১৯৭(১)-এর সংশোধিত বিধানে নারী সরকারি কর্মচারীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ ছয় মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংশোধনীটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সরকারি আদেশেও পাওয়া যায়।
তবে আবেদন করার সময় প্রযোজ্য দাপ্তরিক নিয়ম, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ছুটির শুরুর তারিখ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
৬. প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি: ভবিষ্যতে অর্জিত হবে এমন ছুটির বিপরীতে ছুটি
প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি বা Leave Not Due নির্দিষ্ট শর্তে মঞ্জুর করা যায়। এটি সাধারণ অর্জিত ছুটির মতো নয়; ছুটির হিসাব, ভবিষ্যৎ চাকরিকাল এবং অন্যান্য শর্ত এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯-এর বিধি ৫ এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স। তবে ছুটির সর্বোচ্চ মেয়াদ নির্ধারণের আগে কর্মচারীর চাকরির ধরন এবং প্রযোজ্য উপবিধি মিলিয়ে দেখতে হবে।
৭. এলপিআর: অবসরের আগে কত দিনের ছুটি?
অবসর-উত্তর ছুটি বা Leave Preparatory to Retirement (LPR) সরকারি কর্মচারীর চাকরিজীবনের শেষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।
সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর ৪৭ ধারা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিধান ও শর্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত অবসর-উত্তর ছুটি প্রাপ্য হতে পারে।
এলপিআর মঞ্জুরের ক্ষেত্রে অবসরের তারিখ, ছুটির হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবসরের আগে ছুটির হিসাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা উচিত।
৮. নৈমিত্তিক ছুটি: ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কী নিয়ম?
নৈমিত্তিক ছুটি সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। তবে এই ছুটির প্রাপ্যতা, একটানা ভোগের সীমা এবং অন্যান্য ছুটির সঙ্গে সংযুক্ত করার নিয়ম সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল।
প্রচলিত সরকারি নির্দেশনায় বছরে ২০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটির কথা উল্লেখ করা হলেও, নিজের ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়মটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা দিয়ে নিশ্চিত করা উচিত।
৯. শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি: ছুটির সঙ্গে ভাতা কি পাওয়া যায়?
শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটির উদ্দেশ্য কর্মচারীদের বিশ্রাম ও বিনোদনের সুযোগ দেওয়া। প্রচলিত ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট বিরতিতে এ ছুটি এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ হলে বিনোদন ভাতার সুযোগ থাকতে পারে।
তবে ছুটি ও ভাতা দুটি সম্পর্কিত হলেও এক বিষয় নয়। ছুটি মঞ্জুরের নিয়ম, ভাতার প্রাপ্যতা এবং অর্থ প্রদানের শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
১০. সাধারণ ছুটি, ঐচ্ছিক ছুটি ও নির্বাহী আদেশের ছুটি
সরকারি ছুটির বার্ষিক তালিকায় সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটি এবং ঐচ্ছিক ছুটির উল্লেখ থাকতে পারে। কোন দিন ছুটি থাকবে, কর্মচারী ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন কি না এবং জরুরি দাপ্তরিক দায়িত্বে উপস্থিত থাকতে হবে কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট বছরের প্রজ্ঞাপন ও দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
এ কারণে পুরোনো বছরের ছুটির তালিকা দেখে বর্তমান বছরের ছুটি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটির বিধির গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স
| আইন বা বিধি | কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ |
|---|---|
| নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ | অর্জিত ছুটি, প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি ও সংশ্লিষ্ট ছুটির হিসাব |
| বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস, পার্ট-১ | বিভিন্ন শ্রেণির ছুটি ও চাকরিবিধি |
| সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর ধারা ১৬ | প্রযোজ্য বিধি ও সরকারি আদেশ অনুযায়ী ছুটির প্রাপ্যতা |
| সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৭ | অবসর-উত্তর ছুটি |
| বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের বিধি ১৯৭(১)-এর সংশোধনী | মাতৃত্বকালীন ছুটি |
| সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন | সাধারণ, নির্বাহী আদেশের ও ঐচ্ছিক ছুটি |
সরকারি সূত্র হিসেবে নির্ধারিত ছুটি বিধিমালার প্রকাশিত নথি এবং সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর মূল পাঠ দেখা যেতে পারে।
ছুটির আবেদন করার আগে যে সাতটি বিষয় যাচাই করবেন
১. নিজের ছুটির হিসাবে কত দিন জমা রয়েছে।
২. প্রস্তাবিত ছুটি সংশ্লিষ্ট চাকরিবিধিতে অনুমোদিত কি না।
৩. ছুটির সময় পূর্ণ বেতন, অর্ধগড় বেতন নাকি বিনা বেতনের বিধান প্রযোজ্য।
৪. চিকিৎসা বা মাতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সনদ ও কাগজপত্র রয়েছে কি না।
৫. ছুটির আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা হয়েছে কি না।
৬. ছুটির কারণে ইনক্রিমেন্ট, চাকরিকাল বা অবসর সুবিধায় কোনো প্রভাব পড়তে পারে কি না।
৭. সংশ্লিষ্ট বিধির সর্বশেষ সংশোধনী বা সরকারি আদেশ কার্যকর রয়েছে কি না।
শেষ কথা
সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ধরনের ছুটি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে ছুটির আবেদন, বেতন-সংক্রান্ত হিসাব এবং অবসর-পূর্ব প্রস্তুতি সহজ হয়। তবে শুধু ছুটির নাম বা প্রচলিত মেয়াদ জানাই যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পদ, চাকরির ধরন, ছুটির হিসাব এবং কার্যকর সরকারি বিধান অনুযায়ী প্রকৃত প্রাপ্যতা নির্ধারণ করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ছুটি প্রাপ্য হলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মঞ্জুর হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মূল বিধিমালা, সংশোধনী ও সর্বশেষ সরকারি আদেশ যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
সূত্র: বাংলাদেশ আইনভান্ডার, নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯-এর সরকারি প্রকাশিত কপি, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ।




